মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে, বিগ বসের ঘরে মেয়ের জন্য প্রায়ই কাঁদেন তনুশ্রী, কিন্তু স্বামীর প্রসঙ্গ উঠলেই কেন নীরব হয়ে যান? জীবনের শুরুতেই সংসারের দায়িত্ব, তারপর নিজের পরিচিতি তৈরির লড়াই, কোন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এগিয়েছেন তিনি? দাম্পত্য জীবনের অজানা অধ্যায়ে কি লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও গল্প?

সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত ব্যবসায়ী থেকে বর্তমানে ‘বিগ বস বাংলা’র অন্যতম চর্চিত প্রতিযোগী তনুশ্রী রায় দাস। মাত্র দু’মাস আগেও জলপাইগুড়ির এই ব্যবসায়ীকে মূলত শাড়ির ব্যবসার সূত্রেই চিনতেন অনেকে। কিন্তু রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে পা রাখার পর তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে বাংলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশেও। বিগ বসের বাড়িতে নিজের স্পষ্ট কথা এবং প্রতিবাদী স্বভাবের জন্য ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। প্রতিযোগীদের সঙ্গে ঝামেলা কিংবা কোনও বিষয়ে নিজের মতামত জানাতে কখনও পিছিয়ে আসেন না তনুশ্রী। তবে বাইরে থেকে যতই কঠিন মনের মানুষ বলে মনে হোক, পরিবারের কথা উঠলেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বিশেষ করে মেয়ের কথা প্রায়ই শোনা যায় তাঁর মুখে। কিন্তু এই প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের মনে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু প্রশ্ন।

বিগ বসের বাড়িতে থাকার সময় একাধিকবার নিজের বাবা-মা, মেয়ে এবং বোনের কথা বলেছেন তনুশ্রী। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে কথা বললেও স্বামীর প্রসঙ্গ সচরাচর তাঁর মুখে শোনা যায় না। প্রায় দু’মাসের এই যাত্রায় স্বামীকে নিয়ে বিশেষ কিছু না বলায় দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে। এমনকি একটি পর্বে নন্দিনী দত্ত তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কি নিজের পার্টনারের গায়ে হাত তোলেন? উত্তরে তনুশ্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “স্বামীর উপর হাত কখনও তুলিনি।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেও স্বামী সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ফলে দর্শকদের একাংশের মনে প্রশ্ন উঠেছে, কে তনুশ্রীর স্বামী এবং তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক কেমন? কেনই বা বিগ বসের বাড়িতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা বললেও স্বামীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি?

বিগ বসের মঞ্চে এসে নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছিলেন তনুশ্রী। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল। শোনা যায়, জলপাইগুড়ির সেবাগ্রামের বাসিন্দা তাঁর স্বামী পেশায় পোস্ট অফিসের কর্মী। খুব অল্প বয়সেই মা হন তনুশ্রী। সংসার এবং সন্তান সামলানোর দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। সেই সময় নিজের পরিবার নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তবে ছোট থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল তাঁর। সংসারের দায়িত্ব পালন করলেও নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি এই প্রতিযোগী। ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেন। একদিকে সংসার, অন্যদিকে মেয়ের দায়িত্ব সামলে নিজের কাজের জগতে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে ব্যবসার মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন তনুশ্রী।

তবে তনুশ্রীর পেশাগত জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। শোনা যায়, ব্যবসার ক্ষেত্রে সফল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তেমন সুখী নন তিনি। বিচ্ছেদ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে নাকি স্বামীর সংসারের পরিবর্তে বাপের বাড়িতেই থাকেন তনুশ্রী। তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। সেই কারণেই কি বিগ বসের বাড়িতে স্বামীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি? যদিও এই বিষয়ে তনুশ্রী নিজে কখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও দাম্পত্য জীবন নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে নীরব থাকলেও মেয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অবশ্য বারবার প্রকাশ্যে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ মায়ের কাছে ধনী-দরিদ্র বা ভিআইপি-সাধারণের কোনও ফারাক নেই, সব সন্তানই সমান, আবারও প্রমাণ করলেন অরিজিৎ সিং! বিশেষ সুবিধা ছেড়ে সাধারণ ভক্তদের মতোই কিনলেন পুজোর সামগ্রী, ভক্তদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই করলেন মা কামাখ্যার আরাধনা! ফের মন জিতলেন গায়ক!

বর্তমানে তনুশ্রীর জীবনে সবকিছুর আগে রয়েছে তাঁর মেয়ে। ব্যবসা কিংবা বিগ বসের মতো বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়া, কোনও কিছুই মেয়ের জায়গা নিতে পারে না। শোয়ের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিনই সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে নিজের এই পরিচয়ের কথা স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। সৌরভ যখন তাঁর একাধিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেন, তখন তনুশ্রী জানিয়েছিলেন, “আসলে দিনের শেষে আমি তো একজন মা।” মেয়ের থেকে প্রায় দু’মাস দূরে থাকায় একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি প্রতিযোগীদের পরিবারের সদস্যদের পাঠানো উপহার পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই সময় নিজের মেয়ের পাঠানো উপহার দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তনুশ্রী। চোখের জলে তিনি বলেছিলেন, “আমি জানি মেয়ে টাকা জমিয়ে পাঠিয়েছে এগুলো।” বিগ বসের বাড়িতে যতই সাফল্য বা জনপ্রিয়তা আসুক, মেয়ের প্রতি তাঁর টান যে সবচেয়ে বেশি, তা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন এই প্রতিযোগী।

You cannot copy content of this page