‘নূন্যতম নিরাপত্তার জন্য খরচও বাঁচানো হয়’ রিজওয়ান ফাঁস করলেন টলিপাড়ার ‘গোপন নোং’রা রাজনীতি’! জানালেন, রাহুলের মতো শুটিংয়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন তিনিও! এত বছর চুপ ছিলেন কার ভয়ে?

অকালপ্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে টলিপাড়ায়। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা রিজওয়ান রব্বানি শেখ, যিনি পরিচিত ‘সানি’ নামে, শুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাব ও প্রোডাকশনের গাফিলতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় শুধুমাত্র শোক নয়, প্রোডাকশনের বড় ধরনের অবহেলা ঘটেছে। রিজওয়ান বলেন, তিনি নিজেও শুটিংয়ের সময় প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং এমন অভিজ্ঞতা অনেক ধারাবাহিকে দেখেছেন।

মেরিন পুলিশ ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুসারে, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘটেছে জলে ডুবে। শুটিংয়ের জন্য নৌকায় থাকা অবস্থায় তাঁর ফুসফুসে বেশি বালি ঢুকে ফুলে যায় এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় প্রাণ হারান তিনি। তদন্তে জানা গেছে, শুটিংয়ের জন্য কোনও পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং স্থানীয় থানাকেও তথ্য জানানো হয়নি। প্রযোজনা সংস্থার তরফে বিষয়টি শুরু থেকেই অসঙ্গতি দেখা গেছে এবং সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়ভার শুধুমাত্র রাহুলের উপর চাপানো হয়েছে।

রিজওয়ান রব্বানি শুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে বললেন, তিনি নিজেও বড় ধরনের বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিনেতার কথায়, “অনেকবার শুটিংয়ের সময় নড়বড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে। কখনও চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কখনও বিকেলের আলোয় নদীতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ। আমাদেরও জীবন নিরাপত্তা প্রয়োজন। অনেক সময় প্রতিবাদ করলেও আমরা বাজে মানুষ বলে চিহ্নিত হই।”

তিনি আরও জানান, প্রায়শই প্রযোজকরা নয়, বরং প্রোডাকশন কন্ট্রোলার এবং ম্যানেজাররা খরচ বাঁচানোর জন্য নিরাপত্তার খরচ বাদ দেন। “প্রযোজকরা সচেতন থাকলেও, প্রোডাকশন কন্ট্রোলাররা নিজের ইচ্ছে মতো সেটের নিয়ম এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন করেন। এতে শিল্পীদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ন্যূনতম নিরাপত্তার দাবি করলে আমরা অ্যারোগেন্ট বা সমস্যাজনক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হই। এটা টলিপাড়ার নোংরা রাজনীতির অংশ,” সানি বলেন।

আরও পড়ুনঃ“সাধারণ মানুষও বুঝছে দায় প্রযোজনা সংস্থার, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন?” নিতেই হবে দায়! রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে, লেখিকাকে সরাসরি তো,প অঞ্জনা বসুর! যেখানে কাজ হারানোর ভয়ে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই নীরব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক কন্ঠে সরব হলেন অভিনেত্রী!

সানি মনে করেন, সমস্যার সমাধান হলো সরাসরি কমিউনিকেশন ও পারস্পরিক মানবিক মনোভাব। “যদি প্রযোজক ও শিল্পীদের মধ্যে সম্পর্ক সুস্থ থাকে, তাহলে প্রোডাকশন কন্ট্রোলারদের অকারণ দমনমূলক আচরণ কমবে। প্রত্যেকে যদি একে অপরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে এবং সমস্যা সরাসরি পৌঁছে দেয়, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি, ঠিকমতো যোগাযোগ থাকলে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ও পরিবেশ দুটোই ফিরে আসবে।”

You cannot copy content of this page