“মা-মেয়ের ঝগড়া, অভিমান, নীরবতার মধ্যেও ভালোবাসা থাকে”, তিন প্রজন্মের সম্পর্কের গল্পে মুগ্ধ করলেন ত্রমিলা ভট্টাচার্য! “আজকের ব্যস্ত জীবনে সৌজন্য আর উদারতা হারিয়ে যাচ্ছে”, জীবনের কোন উপলব্ধি এমন বার্তা দিলেন অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতের তারকাদের পর্দার জীবনের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল বরাবরই তুঙ্গে। প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর পরিবার, তাঁদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, সন্তানদের সঙ্গে সমীকরণ কিংবা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা সবকিছুই সাধারণ মানুষের আগ্রহের জায়গা। পর্দায় যাঁদের একটি নির্দিষ্ট চরিত্রে দেখা যায়, তাঁদের বাস্তব জীবনের মানুষ হিসেবে জানার আগ্রহও তাই কম নয়। বিশেষ করে কোনও তারকা যখন নিজের পরিবার, সম্পর্ক এবং জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, তখন সেই কথাগুলির সঙ্গে দর্শকরাও সহজেই নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান।

সম্প্রতি এমনই এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ত্রমিলা ভট্টাচার্যকে দেখা গেল তাঁর মেয়ে এবং মায়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারে উঠে এল তিন প্রজন্মের সম্পর্কের নানা দিক। মায়ের সঙ্গে তাঁর যেমন ঝগড়া হয়, তেমনই রয়েছে আদর, বন্ধুত্ব এবং একে অপরের জন্য চিন্তা। একইভাবে মেয়ের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুর মতো। অভিনেত্রী জানান, তাঁর মেয়ে মায়ের সঙ্গে নিজের মনের কথা ভাগ করে নেয়, পরামর্শ নেয়। আবার তিনিও মেয়েকে প্রয়োজনমতো পরামর্শ দেন। অর্থাৎ মা-মেয়ের সম্পর্কের মধ্যে যেমন বন্ধুত্ব রয়েছে, তেমনই রয়েছে স্বাভাবিক শাসন এবং যত্নের জায়গাটিও।

নিজের সংসারের সম্পর্ক নিয়েও বেশ কিছু মজার কথা জানিয়েছেন ত্রমিলা। তাঁর কথায়, বাড়িতে মা ও মেয়ের মধ্যে ঝগড়া হলেও তিনি সাধারণত সেই ঝামেলার মধ্যে পক্ষ নেন না। বরং পরিস্থিতি বুঝে দূরে থাকাই নিরাপদ বলে মনে করেন! অভিনেত্রীর কথাতেও উঠে আসে পরিবারের এই ছোটখাটো ঝগড়া, অভিমান এবং নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার গল্প। মেয়ের স্বভাব নিয়েও তিনি জানান, তাঁর মেয়ে খুব শান্ত এবং সাদাসিধে। সাজগোজের ক্ষেত্রেও খুব বেশি দেখনদারি পছন্দ করে না। খাবারের পছন্দ নিয়েও তিন প্রজন্মের মধ্যে রয়েছে মজার পার্থক্য মেয়ে কোরিয়ান খাবার পছন্দ করলেও মায়ের পছন্দ বাঙালি খাবার, বিশেষ করে ইলিশ ও চিংড়ির মতো পরিচিত স্বাদ।

তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ত্রমিলার জীবনদর্শন। অভিনেত্রী মনে করেন, কোনও বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ না জেনে তাড়াহুড়ো করে মন্তব্য করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঘটনা বিচার করার আগে তার সব দিক জানা এবং তারপর নিজের মত তৈরি করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত মন্তব্য করার প্রবণতার মধ্যে তাঁর এই কথাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিজের জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার কথাও তিনি ভাগ করে নেন, যেখানে সম্পর্ক, বোঝাপড়া এবং ভালো ব্যবহারের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ ‘অস’ভ্য বর্বর দল ক্ষমতায় এলে যা হয়, ওরা তাই করেছে…’ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস ২৪ ঘণ্টায় সাদা থেকে গেরুয়া হওয়া নিয়ে কটা*ক্ষ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও চন্দন সেনের! ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্ত’প্ত করছে বিজেপি? পাল্টা রুদ্রনীলের হুঁশিয়ারি ‘লেলিন, কার্ল মার্কসের ছবি ঝুলিয়ে কোনও বদমাইশি সহ্য করা হবে না!’ ফের সংস্কৃতির মঞ্চে শুরু হল রাজনৈতিক রঙের লড়াই?

সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশে ত্রমিলার বার্তা আরও মানবিক। তাঁর মতে, ভালো থাকা এবং অন্যকে ভালো রাখার চেষ্টা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় বড় কিছু করে অন্যকে সাহায্য করতে হবে এমন নয়, কখনও ভালোভাবে কথা বলেও একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়। কারও সঙ্গে একটু ভালো ব্যবহার করাও হতে পারে বড় একটি ভালো কাজ। আজকের ব্যস্ত জীবনে মানুষের মধ্যে যে সৌজন্য ও উদারতা অনেক সময় হারিয়ে যাচ্ছে, সেটিই আবার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করাটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মানবিকতা।

You cannot copy content of this page