“সেদিন বিয়ে না করলে…” সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়কে বাধ্য হয়েই বিয়ে করেছিলেন কুশল চক্রবর্তী! মাত্র এক বছরের পরিচিতি, কোন পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়? তখনই বিয়েটা না হলে কী হারাতে পারতেন অভিনেতা? ১২ বছরের সুখী দাম্পত্যের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা সেই অজানা গল্প জানলে অবাক হবেন আপনিও!

বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে তাঁদের প্রেম, বিয়ে এবং সংসার জীবনের নানা গল্প বারবার উঠে আসে আলোচনায়। কেউ দীর্ঘদিন প্রেমের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, আবার কেউ খুব অল্প সময়ের পরিচয়েই খুঁজে পান নিজের জীবনসঙ্গীকে। তবে সম্পর্কের ভিত্তি যদি হয় পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং একে অপরের স্বপ্নকে সমর্থন করার মানসিকতা, তাহলে সেই দাম্পত্যই হয়ে ওঠে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। টলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি কুশল চক্রবর্তী এবং সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের গল্পও ঠিক তেমনই এক সুন্দর উদাহরণ, যা সম্প্রতি তাঁদের এক সাক্ষাৎকারে নতুন করে সামনে এসেছে।

সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’ ছবির ছোট্ট মুকুল হিসেবে আজও বাঙালির মনে বিশেষ জায়গা করে রয়েছেন অভিনেতা কুশল চক্রবর্তী। অন্যদিকে অভিনেত্রী সঞ্চারী মুখোপাধ্যায় অভিনয়ের পাশাপাশি আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে আইনজীবী হিসেবেও নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আইনি রেজিস্ট্রি করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি। এরপর ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বর্তমানে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যার নাম আহির। সংসার এবং কর্মজীবনের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রেখেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের প্রথম পরিচয় এবং দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্তের নেপথ্যের গল্প শোনান কুশল ও সঞ্চারী। অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় তিনি এলএলবি সম্পূর্ণ করে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন এবং পাশাপাশি অভিনয় জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। কুশল চক্রবর্তীকে তিনি একজন সিনিয়র শিল্পী হিসেবে ফেসবুকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন, অভিনয়ের কোনও সুযোগ থাকলে যেন তাঁকে জানানো হয়। এরপর ১৫ আগস্ট তাঁদের প্রথম দেখা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, প্রথম দেখা হওয়ার মাত্র এক বছর এক মাসের মধ্যেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সেই সময়টুকুই তাঁদের কাছে যথেষ্ট ছিল একে অপরকে বোঝার জন্য।

কুশল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৪৫ বছর। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে তাঁর মনে হয়েছিল, শুধুমাত্র কাজের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে জীবনের পূর্ণতা পাওয়া যায় না। সংসার, পরিবার এবং একজন জীবনসঙ্গীর প্রয়োজনীয়তা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর কথায়, তখন মনে হয়েছিল জীবনের যে পথে তিনি এগোচ্ছেন, সেখানে একটি পরিবারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে সঞ্চারীর পরিবার থেকেও তাঁকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অভিনয় জগতেও তিনি ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে উঠছিলেন। ফলে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। দুজনের চিন্তাভাবনা এবং জীবনের লক্ষ্য অনেকটাই এক হওয়ায় তাঁরা আর দেরি না করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুনঃ ‘মা ভালো থাকুক, সেটাই চাইতাম…’ উত্তম কুমারকে সবাই তাঁর বাবা বলেই চিনতেন, কিন্তু দত্তক কন্যা হওয়ার দাবি আদালতের হয়ে যায় খারিজ! জন্মদাতাকে ছেড়ে অন্যজনের হাত ধরেই বড় হওয়া, সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে মহানায়কের সম্পর্ক নিয়ে অকপটে কী বললেন সোমা?

সঞ্চারী মুখোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারের পরিবেশে বড় হয়েছেন। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও নানা কারণে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ তিনি আগে পাননি। পরবর্তীকালে যখন অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার সুযোগ আসে, তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁর জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রয়োজন, যিনি তাঁর পেশাগত স্বপ্নকে সম্মান করবেন এবং কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, কুশল চক্রবর্তীকে বিয়ে করলে তিনি স্বাধীনভাবে অভিনয় জগতে কাজ করতে পারবেন। সেই কারণেই তিনি দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি। আজ বহু বছর পর তাঁদের সুখী দাম্পত্য জীবন সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা আরও একবার প্রমাণ করে। কুশল নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, সঞ্চারী তাঁর জীবনে আসার পর অনেক অগোছালো বিষয় গুছিয়ে উঠেছে এবং সংসার তাঁদের দুজনের জীবনকেই আরও সুন্দর ও পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

You cannot copy content of this page