নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক তুঙ্গে। তাঁর বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ ও নিন্দা শোনা গিয়েছে। টলিউডের একাধিক শিল্পীও এই ঘটনায় প্রকাশ্যে নিজেদের অসন্তোষ জানিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী। নেতাজির মতো একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কটূক্তি মেনে নিতে নারাজ অভিনেতা। আজকাল ডট ইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। টোটা জানিয়েছেন, নেতাজি শুধু তাঁর কাছে নন, গোটা দেশের কাছেই অত্যন্ত সম্মানের মানুষ।
নেতাজির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে টোটা রায় চৌধুরী ইতিহাসের একটি প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, “নেতাজি ভারতমায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান।” এরপর ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলির একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন অভিনেতা। টোটা জানান, ভারত ছেড়ে ব্রিটিশদের চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে অ্যাটলি নাকি নেতাজি এবং তাঁর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির কথা বলেছিলেন। এই প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বোঝাতে চেয়েছেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির ভূমিকার গুরুত্ব কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, নেতাজিকে নিয়ে কে কী মন্তব্য করলেন, সেটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বরং বিতর্ককে কেন্দ্র করে সংবাদ মাধ্যম বা সমাজ মাধ্যমে অযথা প্রচার বাড়ানো থেকেও বিরত থাকা উচিত বলে তাঁর বক্তব্য। এই প্রসঙ্গেই টোটা রায়চৌধুরীর আরও একটি মন্তব্য ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। অভিনেতা বলেন, “সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কে কী বলল তাকে এত গুরুত্ব দিয়ে টিআরপি বাড়াবেন না।” এরপরই তিনি যোগ করেন, “নেতারা থাকেন গদিতে, নেতাজি থাকেন হৃদয়ে।” নেতাজিকে ঘিরে চলা সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মুক্তি পেয়েছে পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে তৈরি এই ছবিতে জিতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোটা। ছবিতে পুলিশ অফিসার দুর্গাপ্রসাদ রায়ের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে এবং শুক্রবার ছবির প্রিমিয়ারে নেতাজির ছবি দেওয়া পাঞ্জাবি পরে হাজির হয়েছিলেন অভিনেতা। এদিকে নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কের আবহেই রাজ্য সরকারের তরফেও কড়া অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, নেতাজির সম্মানের প্রশ্নে সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। এর পরের দিনই অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুনঃ “আমার সন্তান বা তার জন্মদায়িনী মা, কাউকেই কখনও ফেলে দেইনি!” “বাচ্চাটার ভয়ংকর খা’রাপ অবস্থায়, আমি নতুন জীবন দিয়েছি…আমি জানি আমার মেরুদন্ড কতটা শক্ত!” সেদিন শক্ত ছিলাম বলেই এই নরম জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি, স্পষ্ট কথা লাবনী সরকারের! কোন পরিস্থিতি তাঁকে বাধ্য করেছিল, কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মনোবীণা মিত্রের পুত্র সুস্নাতর ‘মা’ হয়ে দাঁড়াতে?
এরপরই সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন অনন্ত মহারাজ। সেখানে নিজের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তাঁকে দুঃখপ্রকাশ করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য, কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরও নেতাজিকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং তা ঘিরে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।






