“ওঁদের ছাড়া আমরা কিচ্ছু নই, আগের প্রজন্ম থেকে এই প্রজন্ম…” ঊষা উত্থুপের কণ্ঠে ‘জেন-জি’দের জয়গান! তরুণদের নিয়ে যা বললেন পদ্মভূষণ শিল্পী, তাঁর কথার সঙ্গে কি একমত আপনিও?

ভারতে এখন নানা ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। আন্দোলন, নতুন ভাবনা, সামাজিক পরিবর্তন কিংবা সংস্কৃতি, সব জায়গাতেই বারবার উঠে আসছে জেন-জি’দের কথা। এই প্রজন্মকে নিয়ে যেমন প্রশংসা হচ্ছে, তেমনই বিভিন্ন সময়ে তৈরি হচ্ছে নানা বিতর্কও। তবে এসবের মধ্যেই দেশের তরুণদের প্রতি নিজের আস্থা ও ভালোবাসার কথা স্পষ্টভাবে জানালেন পদ্মভূষণপ্রাপ্ত জনপ্রিয় শিল্পী ঊষা উত্থুপ। সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন, সঙ্গীতজীবন এবং নানা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি কথা বলেন বর্তমান প্রজন্মকে নিয়েও। সেই সাক্ষাৎকারেই জেন-জি’দের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য এখন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।

সাক্ষাৎকারে ঊষা উত্থুপকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান সময়ে কেরিয়ার শুরু করলে তাঁর পথচলা কতটা আলাদা হতে পারত। উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর মনে হয় এই প্রজন্মে নয়, বরং আগের সময়ে জন্মানোই তাঁর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল। কারণ সেই সুযোগেই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সঙ্গীতজগতে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছেন। একই সঙ্গে বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগও পেয়েছেন। তাঁর মতে, এই দীর্ঘ সফরই তাঁকে শিল্পী হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ঊষা উত্থুপ বলেন, “আগের প্রজন্ম থেকে এই প্রজন্মের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সফরটি আমার কাছে আশীর্বাদের মতোই। কারণ সেকাল থেকে একালে…কেরিয়ারের এই লম্বা সময়টা জুড়ে গানে-সুরে অনেক কিছু ট্রাই করতে পেরেছি। আর প্রাসঙ্গিক থাকতে পেরেছি। আমার মনে হয়, প্রাসঙ্গিক থাকাটা ভীষণ জরুরি। তরুণ সমাজের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাকেই তিনি একজন শিল্পীর বড় সাফল্য বলে মনে করেন।

এরপরই জেন-জি’দের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী। মুখে হাসি নিয়ে তিনি বলেন, “আহা! আজকের আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম কী দারুণ। আর আমি জানি, আমার প্রতি ওঁদের বিশ্বাস আছে কারণ ওঁদের আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি।” তাঁর এই মন্তব্যে বর্তমান প্রজন্মের প্রতি অগাধ আস্থা এবং ভালোবাসার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, তরুণদের উপর বিশ্বাস রাখলে তারাও সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়। তাই দুই প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি ঊষা উত্থুপ। তিনি আরও বলেন, “শুনে রাখুন, ওঁদের ছাড়া আমরা কিচ্ছু নয়! কিচ্ছু নয়। ওঁদের ছাড়া আমাদের থেকে লাভটাই বা কী? আর জানেন তো, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখানোর দায় কিন্তু আমাদের উপরেই বর্তায়।” তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই। তাই তাঁদের এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া এবং সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব প্রবীণ প্রজন্মের। অভিজ্ঞতা এবং নতুন ভাবনার সমন্বয়েই সমাজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ “এক রাতেই বড় হয়ে গেলাম…ছোট্ট মেয়ে হয়ে থাকার অধিকারটা হারিয়ে ফেলেছি” “জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তুমি এখনও পথ দেখাচ্ছ” বাবাকে হারানোর এক বছর পরেও থামেনি চোখের জল, নীলাদ্রি লাহিড়ীর মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে হৃদয়স্পর্শী বার্তা সম্পূর্ণা লাহিড়ীর! স্মৃতিচারণে মেয়ের আকুতি, ছুঁয়ে গেল সকলকে!

ঊষা উত্থুপের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বর্তমান প্রজন্মকে শুধু ভবিষ্যতের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেন না, তাঁদের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন। তাঁর মতে, প্রজন্ম বদলালেও সঙ্গীত, সংস্কৃতি এবং সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রবীণদের দায়িত্বও কম নয়। নতুন প্রজন্মকে বিশ্বাস করা, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং অভিজ্ঞতার আলোয় পথ দেখানোই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে বলেই তাঁর এই মন্তব্যে উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page