“বাচ্চা না হওয়া মহিলাদের কাছে আজও লজ্জার, নানান অত্যা’চারেরও শিকা’র হতে হয়…মা হওয়ায় কি নারীর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য?” তবে কি সম্পূর্ণ হয় একজন নারী? নিজের মা না হয়ে, মাতৃত্বের প্রচলিত ধারণাকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অপরাজিতা আঢ্য!

বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya) শুধু তাঁর অভিনয়ের জন্যই নয়, বরং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব ও বাস্তবধর্মী চিন্তার জন্যও সমান জনপ্রিয়। ছোটপর্দা, বড়পর্দা থেকে মঞ্চ, সব জায়গাতেই তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মন জয় করেছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবর খোলামেলা থেকেছেন।

তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম নয়। ১৯৯৭ সালের ২৬ জুলাই টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান অতনু হাজরাকে বিয়ে করেন তিনি। দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বৈবাহিক জীবনে তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর পরিবারই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। শ্বশুরবাড়ির সাপোর্ট, সম্পর্কের উষ্ণতা সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে নিরাপদ বলেই মনে করেন। এমনকি তিনি নিজের সংসারকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বা অস্কার বলে উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু এখানেই উঠে আসে বড় প্রশ্ন একজন নারী কি শুধুমাত্র মা হলেই সম্পূর্ণ? সন্তান না হলে কি সমাজ তাঁকে অসম্পূর্ণ বলে দাগিয়ে দেয়? অপরাজিতা আঢ্য এই মানসিকতাকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাচ্চা নিজের ইচ্ছায় হয় না, কিন্তু বাচ্চা না হওয়াটা সমাজ এখনও লজ্জা হিসেবে দেখে।” তাঁর মতে, এই ধারণা শুধু ভুল নয়, বরং অত্যন্ত নির্মমও। বিশেষ করে শহরের বাইরে আজও অনেক নারী এই কারণে অপমানিত হন, এই বাস্তব ছবিই তিনি সামনে এনেছেন।

এছাড়াও তিনি তিনি প্রশ্ন তোলেন মাতৃত্ব কি শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি ভালোবাসা ও সম্পর্কই আসল পরিচয়? তিনি নিজে জৈবিকভাবে নিঃসন্তান হলেও, তাঁর জীবনে গার্গী রায় নামে এক কন্যা আছেন, যাকে তিনি নিজের মেয়ের মতোই বড় করেছেন। দত্তক না নিয়েও এই সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে, তাঁর মতে মা হওয়া মানে শুধু জন্ম দেওয়া নয়, “মা হয়ে ওঠা” যা সময়, ভালোবাসা ও দায়িত্বের মাধ্যমে তৈরি হয়।

তাঁর কথায় আরও উঠে আসে সমাজের কঠিন বাস্তব, সন্তান না হলে কেন শুধু মেয়েকেই দায়ী করা হয়? কেন একজন নারীর পরিচয়কে শুধুমাত্র মাতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়? তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সন্তান না হওয়ায় মহিলাদের সংসার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, এমনকি শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। এই মানসিকতাকে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, এই সমাজ কি সত্যিই আধুনিক হয়েছে?

আরও পড়ুন: সব জল্পনার ইতি! অবশেষে রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়! কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের সমর্থনে কী বার্তা দিলেন অভিনেতা?

সবশেষে, অভিনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন জীবনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত, সেটাকে সম্মান করা উচিত। তিনি মনে করেন, সম্পর্ক, পরিবার বা সন্তান সবকিছুই নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার অধিকার সবার আছে। সমাজের তৈরি নিয়ম দিয়ে একজন মানুষের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত নয়। তাঁর এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ বলেই মনে করছেন অনেকেই।

You cannot copy content of this page