মিঠির অদ্ভুত আচরণে হতবাক স্বতন্ত্র! বর্ষার ব্যঙ্গের জবাবে মিটিল দিল কড়া শিক্ষা, এই সাহসী প্রতিক্রিয়ায় জব্দ হয়েছে চন্দ্রও! প্লুটোর স্মৃতি বুকে নিয়ে মৌয়ের বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত!

স্টার জলসার ‘চিরসখা’র (Chiroshokha) ধারাবাহিকের আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, উত্তেজনা চরমে ওঠেছে। বাবিল ফোন করে মিটিলকে পুলিশের খবরটা দিতেই সে সঙ্গে সঙ্গে স্বতন্ত্রকে সবটা জানিয়ে দ্রুত সেখানে আসতে বলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’জন একসঙ্গে পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। তখনই স্বতন্ত্র স্পষ্টভাবে পুলিশকে জানায়, প্রমাণ ছাড়া এবং যথাযথ তদন্ত না করেই একজন ভদ্র বাড়ির মহিলাকে গ্রেফতার করার অধিকার নেই পুলিশের।

প্লুটো যেখানে আ’ত্মহ’ত্যা করার আগে একটি সু’ইসা’ইড নোট লিখে গেছে, সেখানে অযথা কমলিনীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। পুলিশ ওই চিঠির এই কথা জানাতেই পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশ চলে যাওয়ার পরেই চন্দ্র এবং তার মা কমলিনী-স্বতন্ত্রকে আবার নানান কথা শোনাতে শুরু করে। চন্দ্রর মা বলেন, কেন তাদের সব পারিবারিক বিষয়ে স্বতন্ত্র ঢুকে পড়ে। স্বতন্ত্রকে ডেকে আনার জন্য মিটিলকে কথা শোনাতে শুরু করেন তিনি।

প্রতিবারের মতো মিটিল এবারও চুপ করে থাকেনি। ঠাম্মির কটাক্ষের জবাব সে বলে, স্বতন্ত্রকে এক তো সবাই ভয় পায় আর কমলিনীর হয়ে একমাত্র তিনিই দাঁড়াবেন জেনেই মিটিল তাঁকে বারবার ডাকে। হঠাত চন্দ্র চিৎকার করে উঠে মিটিলকে বলে যেন তাদের ব্যাপারে নাক না গলায় বাইরের মেয়ে হয়ে। কিন্তু মিটিল শক্ত থেকেই কড়া জবাব দেয় তাকে। মিটিল জানিয়ে দেয়, চন্দ্রর কথায় তার কিছু যায়-আসে না। তার বাড়িতে মিটিল থাকে না বা তার টাকায় খায়ও না।

বর্ষা আবার কথায় মাঝখানে কথা বলতে শুরু করলে, মিটিল জানায় স্বামীর একটা চাকরিও নেই যে সিনেমা দেখতে নিয়ে যাবে। তাই ফ্রিতে যখন সিনেমা দেখছে, চুপচাপ দেখা উচিত তাঁর। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনাটি ঘটে মিঠিকে ঘিরে। এতদিন যে মিঠি স্বতন্ত্রকে বাবার স্থান দিয়েছিল, যে কোনও পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়াত, হঠাৎ করেই তার মনোভাব বদলে গিয়েছে। সকলের সামনে দাঁড়িয়ে সে স্বতন্ত্রকে ছোট-বড় কথা বলছে। এমনকি সে জানিয়ে দেয়, তাদের সমস্যা নিয়ে স্বতন্ত্র যেন আর কোনওদিন মাথা না ঘামায়।

মিঠির মতে, স্বতন্ত্র যত বেশি তাদের সমস্যায় জড়াবে, তাদের সমস্যা ততই জটিল হবে। স্বতন্ত্র সমস্যার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই, ঠিক তেমন স্বতন্ত্ররও উচিৎ তাদের সমস্যায় না ঢোকা। মিঠির এই পরিবর্তিত রূপ দেখে নতুন তো হতবাক, মনে মনে চন্দ্র খুব খুশি হয়েছে এই ঘটনায়। অন্যদিকে মৌয়ের জীবনও নিয়েছে নতুন মোড়। প্লুটোকে হারানোর যন্ত্রণা সামলাতে না পেরে সে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। পরিবারের সবাই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, একা বিদেশে গিয়ে সে কিভাবে সব সামলাবে?

আরও পড়ুনঃ ছোট পর্দায় ফিরেই র‍্যাপ গানে মঞ্চ মাতাচ্ছেন মধুমিতা! স্টার জলসায় আসছে নতুন ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’, প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে! বিপরীতে থাকছেন কোন অভিনেতা? কবে থেকে শুরু সম্প্রচার?

কিন্তু মৌ কোনও কথা শুনতে চায় না, তার একটাই ইচ্ছা—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়া। আক্ষেপ আর অভিযোগ করে মৌ জানায়, ছোটবেলা থেকে তাকে মিঠির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, এমনকি প্লুটোর মৃ’ত্যুর জন্যেও বলা হচ্ছে মিঠি থেকে মৌ তাকে কেড়ে নিয়েছিল বলেই এই ঘটনা ঘটেছে। মৌয়ের কাছে বন্ধুদের তরফ থেকে প্লুটোর জন্য স্মরণসভার প্রস্তাব আসে। প্রথমে দ্বিধা থাকলেও পরে মৌ রাজি হয় এবং সবার কাছে অনুরোধ করে মিঠিও যেন স্মরণসভায় উপস্থিত থাকে।