চকচকে আলো আর ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালে যে চাপা অন্ধকারও থাকে, তা ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষেরাই বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত করেছেন। তাদের কথায় যেমন সাফল্যের গল্প সামনে আসে, তেমনই থেকে যায় অপ্রকাশিত হতাশা, অপমান আর ভয়ের স্মৃতি! অনেক সময় কাজের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া শুধু পেশাগত ক্ষতি নয়, ব্যক্তিগত আত্মসম্মানেও আঘাত করে। বাইরে থেকে যেটা গ্ল্যামারাস মনে হয়, ভেতরে তার সমীকরণ অনেক জটিল।
সম্প্রতি, এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান যে একটি বড় মিউজিক ভিডিয়োর জন্য তাঁকে নেওয়া হয়েছিল। প্রস্তুতিও শুরু করেও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগের দিন তাঁকে জানানো হয়, তিনি আর এই প্রোজেক্টের অংশ নন! কারণ হিসেবে বলা হয়, তাঁর চেহারা নাকি ক্যামেরার জন্য উপযুক্ত নয়। এতদিন পর এই সিদ্ধান্ত কেন? সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।
প্রসঙ্গত, এই অভিজ্ঞতার কথাই খোলাখুলি তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী আয়েশা খান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ঘটনাটা শুধুই একটি কাজ হারানোর নয়, বরং আচমকা প্রত্যাখ্যানের ধাক্কাও বটে। তিনি যেমন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, ঠিক ততটাই মানসিকভাবে তৈরি হয়েছিলেন। অথচ শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত তাঁকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে সাফল্যের সুযোগ দিন দিন কমে, অদৃশ্য চাপ আর অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শুধু কাজের ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত পরিসরেও তিনি নাকি একসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন! সামাজিক মাধ্যমে নিজের ছবি পোস্ট করলেই অশা’লীন মন্তব্য আর ধ*র্ষণের হু’মকি আসত বলেও জানান তিনি! পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, নিজের প্রোফাইলে কাজ সংক্রান্ত কিছু শেয়ার করতে গেলেও ভয় কাজ করত। ক্রমাগত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া একজন মানুষের মানসিক অবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁর কথাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ “ফিফটি পার্সেন্ট আগেই শুরু হয়েছিল, আমি এক বছর ছোট…বরের উপর আমারই বেশি চলবে!” বিয়ের পরে প্রথম হোলি, সম্পর্কে রংবাজি নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় প্রিয়াঙ্কা-শুভ্রজিৎ! এক মাসের দাম্পত্যেই দিলেন কীসের ইঙ্গিত? রঙের উৎসবেই সামনে এলো অজানা সমীকরণ?
একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, গ্ল্যামারের জগতটা যতটা উজ্জ্বল দেখায়, বাস্তবে ততটাও নয়! বরং সেখানে আলোর তলায় অন্ধকার বেশি, ঠিক প্রদীপের মতো। একজন মেয়ে হয়ে প্রত্যাখ্যান, শরীর নিয়ে মন্তব্য, ভয় দেখানো সবকিছু মিলিয়ে পথটা কঠিনই। তবু সেই অভিজ্ঞতা সামনে এনে কথা বলার মধ্যেই হয়তো সাহসের জায়গা তৈরি হয়, যা অন্যদেরও নিজেদের গল্প বলতে উৎসাহ দেয়।






