“পারিবারিক টানাপোড়েনে বন্ডিংটাই ছিল না, মানতেই পারছি না আর নেই…আমায় মন দিয়ে ভালোবেসেছে, আমিও ভালোবাসতাম”, হঠাৎ মৃ’ত্যুতে বিপর্যস্ত সায়ক, জীবনের অন্যতম আপনজনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি!

বছরের শুরুতেই নতুন করে পর্দায় ফেরা, একের পর এক ধারাবাহিকে অভিনয়– সব মিলিয়ে বেশ ভালোই চলছিল অভিনেতা ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) জীবন। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ মাধ্যমে ভ্লগিংয়েও নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। পর্দার ব্যস্ততা আর ব্যক্তিগত মুহূর্ত মিশিয়ে প্রতিদিন যে আন্তরিক ভ্লগ বানান, সেটাই মানুষকে তাঁর আরও কাছে টেনে আনে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই হাসিখুশি মুখে জমে উঠল গভীর একটা দুঃখ! জীবনের এমন একজন মানুষকে হারালেন সায়ক, যাঁর সঙ্গে সম্পর্কটা বড় অদ্ভুত, আবার ততটাই মূল্যবান।

ছোটবেলায় পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে মাম্পি দি নামের একজন দিদি আছেন, এটা জানাই ছিল না তাঁর। বাবা,কাকা আর জ্যাঠার দূরত্বে আটকে ছিল নিজের পরিবারের বহু গল্প, বহু সম্পর্ক। কিছু বছর পরে, ২০০২ সালে দাদুর মৃ’ত্যুর সময় প্রথমবার দেখা সেই দিদির সঙ্গে। তারপর দীর্ঘ অন্ধকার, না কোনও ফোন আর না দেখা। তবু বহু বছরের ব্যবধান পেরিয়েও যখন হঠাৎ করেই একদিন কাজের সূত্রে সায়ক নিজে থেকে যোগাযোগ করেন। সেই ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য, এটা তিনি ভাবতেও পারেননি।

এরপর মাম্পি দির বাড়িতে গিয়ে যে ভালোবাসা, যত্ন আর আপ্যায়ন পেয়েছিলেন সায়ক, সেটা যেন তাঁকে মুহূর্তে নিজের মানুষ করে তুলেছিল। দিদির রান্না ছিল তাঁর প্রাণ, বিশেষ করে কাতলা মাছের বিভিন্ন পদ। অভিনেতার কথায়, পাড়ার মানুষও সমান ভালোবাসতেন দিদিকে। যেন শুধু সায়কের নয়, সবারই ‘মোটা দিদি’। শরীর ভালো না থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার দেখাতে চাইতেন না, টাকাও জমিয়ে রাখতেন। সয়কের কথায়, কেন জমাতেন সেটা কেউই জানত না, কিন্তু পরিবারের জন্যই হতে পারে। অথচ জীবনের শেষদিকে সে মানুষটাই ভেঙে পড়েছিলেন নিজের পরিবারের হাতেই।

আজ, দিদির মৃ’ত্যুদিনে সায়ক যেন পরিবারের সেই কঠোর বাস্তবতা সমাজ মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি, দিদির হাতের রান্না না খাওয়া, অপমান মিলিয়ে জমে থাকা কষ্টগুলোই নাকি দিদিকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। সায়ক নিজের চোখে দেখেছেন, দিদির নি’থর দে’হের পাশে দাঁড়িয়ে ভাই সম্পত্তির হিসেব খুঁজছে! এই দৃশ্যই যেন তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। এত প্রেম, এত যত্ন দিয়ে যিনি আপন করে নিয়েছিলেন, শেষ সময়ে সেই মানুষই নাকি সবচেয়ে একা হয়ে গিয়েছিলেন!

আরও পড়ুনঃ “ছোটবেলায় ডাকতাম ‘বেণু মামা’, পরে হয়ে গেল ওগো-হ্যাঁ গো…সাধারণত এমন সম্পর্কে বিয়ে খুব একটা হয় না”, মিঠু চক্রবর্তী শোনালেন সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর অপ্রচলিত প্রেম-বিয়ের গল্প! জানেন, কেমন বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল সব্যসাচী-মিঠুর চার দশকের দাম্পত্য?

এই আকস্মিক আপনজনকে হারানোয় ভেঙে পড়েছেন সায়ক। তবু মনে করছেন, যতটুকু সময় পেয়েছিলেন দিদির সঙ্গে, সেটুকুই তাঁর কাছে আশীর্বাদ। নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, “একটাই জীবন, মানুষকে ভালোবাসা আর ভালো রাখা ছাড়া বাকি সবটাই ফাঁকা।” মাম্পি দির প্রতি সেই অল্প সময়ের ভালোবাসাই যেন তাঁর জীবনে বড় শিক্ষা হয়ে রইল, সম্পর্ক রক্তের ওপর নির্ভর করে না, মন খুলে জায়গা করে নিলেই মানুষ নিজের হয়ে ওঠে।