“আমাদেরই ভুল ছিল, দিদির কাছে ঠিক করে পৌঁছাতে পারিনি!” “টাকা পেয়েছি আমরা, দিদি মানসিকভাবে বিধ্ব’স্ত আর কিচ্ছু ছড়াবেন না!” ভাইরাল হতেই ফের ভিডিওতে, দেবলীনাকে ঘিরে অভিযোগ প্রত্যাহার ভিডিওগ্রাফারদের! সত্যতা তুলে ধরে, দিলেন বিত’র্কে ইতি টানার বার্তা!

গত কয়েক দিনে সমাজ মাধ্যমে যে ঘটনাগুলো সবথেকে বেশি ঘুরে বেড়িয়েছে, তার কেন্দ্রে ছিলেন গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy)। হঠাৎ করে লাইভে এসে ব্যক্তিগত জীবনের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক অবসাদের কথা সামনে আনেন তিনি। সবসময় তাঁকে হাসিখুশি ইমেজে দেখে অভ্যস্ত দর্শকদের কাছে এই দৃশ্য ছিল অপ্রত্যাশিত। এরপর নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টার খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়ায় সর্বত্র। অনেকেই তখন দেবলীনাকে মানুষ হিসেবে বিচার করে তাঁর পাশে দাঁড়ান, দ্রুত আরোগ্য এবং মানসিক স্থিতি ফিরে পাওয়ার কামনাই ছিল মূল সুর।

এই আবহেই আচমকা অন্য মাত্রা যোগ করে দুই ভিডিওগ্রাফার নীল ও ঋভুর প্রকাশ করা অভিযোগ! তাঁদের দাবি অনুযায়ী, পেশাগত সম্পর্কে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করিয়েও প্রাপ্য পারিশ্রমিক মেলেনি। কাজের সূত্রে কলকাতায় আসা, বিভিন্ন জায়গায় শুটিং, খরচের হিসেব মিলিয়ে যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে তাঁরা হতাশ ছিলেন বলেই জানান। সমাজ মাধ্যমে এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই দেবলীনার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। তবে এই ঘটনায় মোড় আসে ঠিক তার পরেই।

অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই দুই ভিডিওগ্রাফার আবার নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে আসতে দেখা যায় তাঁদের। তারা সেই ভিডিওতে বলেন, “সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ, কালকে দিয়ে আপনারা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা আবার এই ভিডিওটা করছি বলতে যে, আমাদের যা টাকা বাকি ছিল সব পেয়ে গেছি আমরা। আমাদেরই ভুল ছিল, এতদিন আমরা ঠিক করে দিদির কাছে পৌঁছাতে পারিনি। কাল ভিডিওটা করার পর, আপনারা দিদির কাছে পাঠিয়েছে আর দিদিও সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ভিডিওটা যখন করেছি, দিদির হয়তো মাথা গরম ছিল তাই কিছু কথা লিখে ফেলেছিল এখানে, কিন্তু পরে ফোন করে সবটা বলেছেন। আমরা আগের ভিডিওটা ডিলিট করলাম কারণ, বিল দেখাতে গিয়ে আমরা ভুল করে দিদির নম্বর দেখিয়ে ফেলেছিলাম। এছাড়াও দিদির মানসিক অবস্থা ভালো না। আমাদের সঙ্গে ঘটনাটা যেই সময় হয়েছিল, তখনও দিদি ঘটনাচক্রে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তাই আমাদের উচিত হয়নি ওইভাবে হয়তো বলা, সেটা দিদিকেও বলেছি। আপনাদেরও অনুরোধ করছি, দয়া করে আর দিদিকে এই নিয়ে কিছু বলবেন না আপনারা।

আমাদের ওই ভিডিওটা আর কেউ ছড়িয়ে দেবেন না। দিদির সমস্যা আমরা বুঝেছি যে, কোন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। আপনারা তাই স্ক্রিন শট নিয়ে বা রেকর্ড করে ভিডিওটা আর কেউ পোস্ট করবেন না!” এই দ্বিতীয় ভিডিও প্রকাশের পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়। বকেয়া টাকা মিটে যাওয়া, ভুল বোঝাবুঝির কথা স্বীকার এবং দেবলীনাকে নিয়ে আর কোনও নেতিবাচক আলোচনা না করার অনুরোধ মিলিয়ে বিষয়টি মানবিক দিক থেকেই নতুনভাবে দেখা শুরু করেন অনেকেই।

আরও পড়ুনঃ “আমাদেরই ভুল ছিল, দিদির কাছে ঠিক করে পৌঁছাতে পারিনি!” “টাকা পেয়েছি আমরা, দিদি মানসিকভাবে বিধ্ব’স্ত আর কিচ্ছু ছড়াবেন না!” ভাইরাল হতেই ফের ভিডিওতে, দেবলীনাকে ঘিরে অভিযোগ প্রত্যাহার ভিডিওগ্রাফারদের! সত্যতা তুলে ধরে, দিলেন বিত’র্কে ইতি টানার বার্তা!

একই সঙ্গে উঠে আসে শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ, যেখানে ব্যক্তিগত চাপের প্রভাব পেশাগত সম্পর্কেও পড়তে পারে। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেবলীনার সুস্থতা। ভুল, অভিমান বা অস্পষ্টতা যে কোনও মানুষের জীবনেই আসতে পারে, কিন্তু সেগুলো কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সবচেয়ে বড় লড়াই। এই মুহূর্তে নেতিবাচক আলোচনা থামিয়ে, তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও মানসিক শক্তি ফিরে পাওয়ার দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। একজন শিল্পী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেবলীনাকে সুস্থভাবে ফিরে আসতে দেখাই এখন সকলের কামনা।

You cannot copy content of this page