“সম্পূর্ণটাই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা, পা দুটো অকেজো হয়ে গেছে…চি’তায় শুয়ে, উপরে যেতে চাই!” হুইলচেয়ারে ব’ন্দি বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় জানালেন অসহায় অবস্থার নেপথ্যে কারণ! শরীরের ভগ্নদশা নিয়েও, আজও স্পষ্টবাদী বর্ষীয়ান অভিনেতা!

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে, একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যা দেখে টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ‘বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়’-এর (Biplab Chatterjee) শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্দায় ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে এক ভীতির ছবি গেঁথে দেওয়া এই অভিনেতার বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকেই সহানুভূতির ঝড় উঠেছিল। বিশেষ করে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা, হাঁটতে না পারার দৃশ্য অনেকের জন্য সত্যিই বিষ’ণ্নকর ছিল। ভিডিওতে তাঁকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল, দুজন মানুষের সাহায্য ছাড়া পা ফেলার ক্ষমতাও ছিল না।

কিছু মানুষ তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করলেও, অধিকাংশ মানুষই এক গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। এদিন নতুন বছরের প্রথমেই, ‘বর্ষসেরায় বর্ষশুরু সিনেমার সমাবর্তন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত হয়ে, আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন। অনুষ্ঠান শেষে যখন তাঁকে শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বললেন, “এখন ঠিকই আছি, শুধু পা দুটো অকেজো হয়ে গেছে। সম্পূর্ণটাই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য হয়েছে।” যদিও তাঁর শরীরের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না।

তবুও উপস্থিত সবাইকে একেবারে প্রভাবিত করেছিলেন তাঁর সাহসিকতা ও চিরকালীন সৌম্যভাবনায়। কালো পোশাক পরিহিত বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় হুইল চেয়ারে বসে পুরস্কার গ্রহণের পর, নিজের অদম্য জীবনযাত্রার ছবি প্রকাশ করেছিলেন। এক সময়ের সেরা ভিলেন, আজ আর্থিক কিংবা শারীরিক সমস্যার কারণে গুণী মানুষ হিসেবে আরও বেশি মনোযোগের কেন্দ্রে। তবে বিপ্লবের জীবনের এই রূপ নিয়ে নানা ধরণের মন্তব্য উঠে এসেছে। অনেকেই বলছেন, ‘সারাজীবন খারাপ চরিত্রে অভিনয় করলে এই পরিণতি!’

প্রসঙ্গত, তাঁর জীবন শুধুই পর্দার অভিনয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ছিল তাঁর। এক সময় কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে লড়াই করে, ভোটের ময়দানেও দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি কখনও মাথা নত করেননি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কিন্তু এই মনোভাবই তাঁকে টালিগঞ্জের চিত্রনির্মাতাদের চোখে খারাপ করে তুলেছিল। যার জন্য পরবর্তী সময়ে অনেক কাজের সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তবে আজ, বয়সের সাথে সাথে তাঁকে যখন কাজের সুযোগ কম দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “আমাদেরই ভুল ছিল, দিদির কাছে ঠিক করে পৌঁছাতে পারিনি!” “টাকা পেয়েছি আমরা, দিদি মানসিকভাবে বিধ্ব’স্ত আর কিচ্ছু ছড়াবেন না!” ভাইরাল হতেই ফের ভিডিওতে, দেবলীনাকে ঘিরে অভিযোগ প্রত্যাহার ভিডিওগ্রাফারদের! সত্যতা তুলে ধরে, দিলেন বিত’র্কে ইতি টানার বার্তা!

তবুও তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চাওয়া শুধুই শান্তি, সবার আশীর্বাদ। এমনকি, তাঁর নিজের মুখে শোনা গেল, “আর ভালো লাগছে না! এবার চি’তায় শুয়ে, উপরে যেতে চাই। আমি কে…আমি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রস্তাব আসতেই থাকবে? উনি তো আমার থেকেও বড় অভিনেত্রী, তাই বললাম আরকি।” বছরের পর বছর পর্দায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে লাখো দর্শকের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা বিপ্লব আজ নিজেই জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তবে সেই সাহসী মানুষটা এখনও মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করেন, তাঁর অভিনয় এবং অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য।

You cannot copy content of this page