স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক পরশুরাম আজকের নায়ক এক বছর পূর্ণ করতেই সেটে যেন উৎসবের আবহ। দাসানি ২ স্টুডিয়োর মাঠ বেলুনে সাজানো, চারদিকে হাসি আর আনন্দের রেশ। সেই পরিবেশেই সাংবাদিকদের সামনে মজার মন্তব্য করে সবাইকে হাসালেন ধারাবাহিকের নায়ক ইন্দ্রজিৎ বসু। পর্দায় তাঁর স্ত্রী তটিনী চরিত্রে অভিনয় করছেন তৃণা সাহা। এক বছর ধরে একসঙ্গে স্বামী স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ইন্দ্রজিৎ হেসে বলেন, শুনেছি এক বছর সংসার করলে নাকি স্বামী স্ত্রী ভাইবোন হয়ে যায়। তৃণার সঙ্গে এতদিন কাজ করতে করতে আমারও সেই অবস্থা হয়েছে। কথাটা শুনে লাজুক হাসি ফুটে ওঠে তৃণার মুখেও, আর সেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খুনসুটির আবহ।
লাল সালোয়ার কামিজে তটিনী সেজে হাজির তৃণা, আর লাল চেক শার্ট ও রোদচশমায় ঝলমল করছেন পরশুরাম ইন্দ্রজিৎ। ধারাবাহিকে তাদের দুই সন্তানের গল্পও দর্শকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। তবে বাস্তবে এই পর্দার দম্পতির মধ্যে বন্ধুত্ব আর মজার খুনসুটি বেশি চোখে পড়ে। শুটিংয়ের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে গল্প করতে করতেই দুজনের মুখে বারবার লাজুক হাসি ধরা পড়ে। তৃণা জানান, এখন ধারাবাহিকে আরও অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য নিজেকে তৈরি করছেন তিনি। সেই কারণে ওজন কমানোর চেষ্টাও করছেন। পাশে তখন পর্দার মেয়ে পিকু চরিত্রে অভিনয় করা আয়শ্রী মুখোপাধ্যায়। তাকে দেখে আদুরে গলায় তৃণা বলে ওঠেন, শনি রবিবারেও এখন শুটিং চলবে, কাজের ব্যস্ততা আরও বাড়ছে।
এদিকে মা মেয়ে মিলে এত গল্পে মেতে উঠতেই দূর থেকে হাসতে হাসতে মন্তব্য করেন ইন্দ্রজিৎ। তিনি মজা করে বলেন, এই যে এত ভাব দেখছেন সবটাই কিন্তু অভিনয়। তবে এর মধ্যেই তিনি সিরিয়ালের সাফল্যের রহস্যও খুলে বলেন। তাঁর মতে, পরশুরাম চরিত্রে একজন পুলিশ অফিসার যেমন অপরাধীদের সামনে কঠোর, তেমনই বাড়িতে সে একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ। বাজার করা থেকে সংসার সামলানো সব কিছুতেই সে বাস্তবের মানুষ। এই সাধারণ অথচ পরিচিত জীবনযাপনই দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। সেই কারণেই পুরুষকেন্দ্রিক গল্প হয়েও ধারাবাহিকটি রেটিং তালিকায় শীর্ষে জায়গা ধরে রেখেছে।
নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইন্দ্রজিৎ জানান, তিনি সব সময় সেই চরিত্রই বেছে নেন যা তাঁর মনকে ছুঁয়ে যায়। তাঁর বিশ্বাস, যে গল্প বা চরিত্র তাঁর নিজের ভাল লাগে সেটাই দর্শকের কাছেও পৌঁছে যায় সহজে। তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড পরিশ্রম করেন বলেই কাজের অভাব হয় না। পারিশ্রমিক নিয়েও খুব বেশি ভাবেন না। ঈশ্বরের আশীর্বাদ আর দর্শকের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পাশাপাশি প্রযোজক স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নির্দেশনা মেনে চলাই তাঁর কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ লতা মঙ্গেশকরের মতোই কণ্ঠই একসময় অভিশা’প হয়ে উঠেছিল শ্রেয়া ঘোষালের জীবনে! তারপর কী ঘটেছিল যে বদলে গেল সবকিছু? যার কন্ঠে মুগ্ধ হন প্রতিদিন, জানেন কী লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে?
অন্যদিকে ভবিষ্যতের গল্প নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন তৃণা সাহা। তিনি শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামনে তটিনী চরিত্রে আসছে বড় চমক। ধারাবাহিকের গল্পে আপাতত তটিনী নিখোঁজ, আর তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে রহস্য। পরে জানা যাবে, সংসারী মেয়েটির আরেকটি পরিচয় রয়েছে। সে আসলে একজন বিশেষ পুলিশ অফিসার। অ্যাকশন, রহস্য আর পারিবারিক আবেগ মিলিয়ে দর্শকের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন মোড়। এক বছরের সাফল্য উদযাপনের মাঝে বড় কেক কাটা, পোলাও মাংসের গন্ধ আর গরম ফিশ ফ্রাইয়ের স্বাদে জমে উঠেছিল পুরো অনুষ্ঠান। আর সেই আনন্দের মাঝেই পর্দার দম্পতির খুনসুটি আবারও প্রমাণ করে দিল, তাদের রসায়নই এই ধারাবাহিকের সবচেয়ে বড় শক্তি।






