“উত্তম কুমার কোনওদিন ‘সুপারস্টার-মেগাস্টার’ তকমা শোনেননি, তিনি শুধু উত্তম দা ছিলেন!” “আমি এই শব্দগুলোর প্রয়োজন অনুভব করি না, কাজের মানটা আসল!” টলিউডে তারকাখেতাবের লড়া’ইয়ে স্পষ্ট অবস্থান রঞ্জিত মল্লিকের!

বর্তমানে অভিনেতা অভিনেত্রীদের নামের পাশে কিছু ‘বিশেষণ’ ব্যবহারে প্রবণতা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মধ্যে টলিউডে অভিনেতাদের নামের পাশে ‘সুপারস্টার’ (Superstar) কিংবা ‘মেগাস্টার’ (Megastar) শব্দ ব্যবহার নিয়েও এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে! দর্শক থেকে শুরু করে শিল্পী, সবাই যেন একে অপরকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছেন। দেবের নামের পাশে মেগাস্টারের তকমা তো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, আবার জিৎ কিংবা প্রসেনজিৎকে সুপারস্টার বলা হয়ে আসছে বছরের পর বছর। এমনকি বেশ কিছু অভিনেতাও তাদের নামের আগে এসব বিশেষণ পছন্দ করেন।

কিন্তু এর বিপরীতে কিছু শিল্পী আছেন, যারা এইসব তকমা বা উপাধির চেয়ে নিজেদের কাজকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। সম্প্রতি, এমন এক ব্যক্তিত্ব ‘রঞ্জিত মল্লিক’ (Ranjit Mallick) এই বিষয়ে প্রশ্ন পেতেই, তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ সোজাসাপটা। তিনি বললেন, “সুপারস্টার কিংবা মেগাস্টার শব্দ আমার কাছে বিশেষ কিছু নয়, খুব একটা পছন্দও করি না। অভিনেতার কাছে আসল কথা তো ছবির মানটাই। উত্তম কুমার তো জীবনেও এসব তকমা পাননি, তিনি ছিলেন শুধুই উত্তম দা।” তাঁর মুখে এই কথাগুলো যেন খুবই প্রাসঙ্গিক।

কারণ, উত্তম কুমার বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি। কখনও নিজের ওপর ‘সুপারস্টার’ বা ‘মেগাস্টার’ তকমা চাপাননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও, দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন এবং আছেন সর্বকালের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। এটা বুঝিয়ে দেয়, শিরোনাম বা বিশেষণ কোনোভাবে আপনার কাজের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না, বরং মানুষকে ভালোবাসা, বিশ্বাস, এবং সত্যিকারের কর্মের প্রতি ভালোবাসাই সব থেকে বড় পুরস্কার। আর এত বছর পরেও নিজের কাজের প্রতি যে শ্রদ্ধা এবং সমর্থন রঞ্জিত মল্লিক রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অভিনেতা হিসেবে রঞ্জিত মল্লিকের দীর্ঘ যাত্রায় ব্যর্থতা নেই বললেই চলে। বহু বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এই দীর্ঘ যাত্রায় কখনও তাকে কোনও বিতর্কের মধ্যে পড়তে দেখা যায়নি। অহংকারও কখনও তার চরিত্রের অংশ হয়নি। বরং তিনি নিজেদের কাজের ওপর আস্থা রেখে, সেই কাজের মাধ্যমেই নিজের জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি কখনও নিজেকে ‘স্টার’ বা ‘মেগাস্টার’ প্রমাণ করতে চাইনি, বরং তার কাজই তার পরিচয়। আজকের এই যুগে, যেখানে স্টারডম আর তকমা নিয়েই প্রায় সবাই ব্যস্ত।

আরও পড়ুনঃ বাড়ছে অসন্তোষ, উদ্বে’গজনক পরিস্থিতিতে বন্ধের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর গড়া টলিউড স্ক্রিনিং কমিটি! এবার প্রশ্নের মুখে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ?

সেখানে রঞ্জিত মল্লিকের এই সোজাসাপটা চিন্তা আমাদের কাছে যেন আলাদা রকমের গুরুত্ব নিয়ে আসে। সেলিব্রিটি কালচার, তকমা আর খ্যাতির ছক বাইরে গিয়ে নিজের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা, এটা যে কতটা বড় বিষয়, সেটা বুঝতে হবে সবাইকে। রঞ্জিত মল্লিকের মতাদর্শ এবং তাঁর পদ্ধতি আজকের দিনে বিরল হতে পারে, কিন্তু এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, তাঁর মতো মানুষদের উপস্থিতি চলচ্চিত্র জগতে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কতটা সহমত, বর্ষিয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের এই মতাদর্শের সঙ্গে?

You cannot copy content of this page