সুচিত্রা সেন—টলিপাড়ার ইতিহাসে এক অনন্য নাম। অপরূপ সৌন্দর্য, সংযত অভিজাত উপস্থিতি আর আবেগে ভরপুর অভিনয় তাঁকে করে তুলেছিল মহানায়িকা। পর্দায় তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করত দর্শক। কিন্তু এই আলোয় মোড়া জীবনের আড়ালেই ছিল গভীর ছায়া। ব্যক্তিজীবনে শান্তির অভাব, বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন তাঁকে ভিতরে ভিতরে ক্লান্ত করে তুলেছিল।
সেই কারণেই এক সময় হঠাৎ করেই নিজেকে সরিয়ে নেন লাইমলাইট থেকে। লাইট–ক্যামেরা–অ্যাকশনের দুনিয়া থেকে দূরে চলে যান সুচিত্রা সেন। এমনকি চাননি তাঁর মেয়ে মুনমুন সেন অভিনয় জগতে আসুক। কারণ তিনি জানতেন, খ্যাতির আড়ালে কতটা একাকীত্ব আর অন্ধকার লুকিয়ে থাকে—যা তিনি নিজে অনুভব করেছেন বারবার। এই অভিনয় জীবনের মধ্যেই গড়ে উঠেছিল উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর অতুলনীয় রসায়ন।
উত্তম–সুচিত্রা মানেই ছিল দর্শকদের আবেগ, ভালোবাসা আর টানটান উত্তেজনা। পর্দার বাইরে সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও, তাঁদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্ব আর পারস্পরিক সম্মান। মহানায়কের প্রয়াণ সেই বন্ধনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়। উত্তম কুমারের মৃত্যুর দিনে ফুল হাতে ম্লান মুখে শেষবার তাঁকে দেখতে এসেছিলেন সুচিত্রা সেন।
কথা বলেননি কারও সঙ্গে। শোকে মূহ্যমান অবস্থায় যেন পাথরের মূর্তি মনে হচ্ছিল সেইদিন মহানায়িকাকে! অস্ফুটে মুখ দিয়ে বেরিয়েছিল “আমি হেরে গেলাম উতু!” তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বেরিয়ে যান তারপর। পরে এক সাংবাদিকের অনুরোধে শুধু বলেছিলেন, মন ভারাক্রান্ত, বিশ্বাসই হচ্ছে না উত্তমবাবু আর নেই। এর পরেই সামনে আসে এক না বলা অধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ আ’ত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টায়, মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিলেন দেবলীনা নন্দী! দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেই আশ্রয় করলেন কাকে?
‘আলো আমার আলো’ ছবিতে সুচিত্রা সেনের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ফোন করেছিলেন উত্তম কুমার। কিন্তু সেদিন ছিল সুচিত্রার ব্যস্ততম সময়। ভেবেছিলেন পরে ফোন করবেন—কিন্তু আর করা হয়নি। কিছুদিন পরই আসে মহানায়কের মৃত্যুসংবাদ। পরে উত্তম কুমারের স্ত্রী জানান, শুধু প্রশংসা করতেই ফোন করেছিলেন তিনি। এই কথাই সুচিত্রা সেনকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে—যদি সেদিন ফোনটা করতেন, হয়তো প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে শেষবার মন খুলে কথা বলা যেত।






