আ’ত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টায়, মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিলেন দেবলীনা নন্দী! দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেই আশ্রয় করলেন কাকে?

তাঁকে নিয়ে আলোচনা যে এক্কেবারে থেমে গিয়েছিল, তা কিন্তু নয়। তবে, গত সপ্তাহের শেষে আবার লাইভে এসে নিজের অবস্থার কথা জানানো পড়ে নতুন করে ‘দেবলীনা নন্দী’কে (Debolina Nandy) ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, এখন সেই ভুলের মূল্যই দিচ্ছেন। এই লাইভেই দেবলীনা অনুরোধ করেন, যেন মানুষ আর কটু কথা, ট্রোল বা অমানবিক মন্তব্য করে তাঁর মানসিক অবস্থাকে আরও বিপর্যস্ত না করে। তাঁর কথায় বারবার উঠে আসে একটাই আবেদন, তাঁকে একটু বাঁচতে দেওয়া হোক। একটু শান্তিতে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

এই ঘটনাগুলোর পেছনে যে গভীর মানসিক চাপ কাজ করছিল, তা দেবলীনা আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নিজের পরিবার আর ভালোবেসে গড়া সংসারের টানাপোড়েনে তিনি যে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, সেটাই তাঁকে ভুল পথে ঠেলে দিয়েছিল বলে জানান গায়িকা। কয়েকদিন আগেও যাঁর পরিচিতি ছিল হাসিমুখের ভ্লগ, সুরেলা গান আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি, সেই দেবলীনা নন্দীকেই মানুষ দেখেছে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তাঁকে নানাভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয়েছে। কীভাবে তিনি এই অবস্থায় ভিডিও করলেন?

আদৌ তাঁর কথা সত্য কি না, এমন নানা কটাক্ষ ছুটে এসেছে। আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টা করে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও, মানসিক শান্তি ফেরেনি। বরং লাইভে তাঁর শ্বাসকষ্টের কথা, দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি মিলিয়ে তিনি স্বীকার করেন, এই সময়টায় তাঁর পাশে পরিবার, আত্মীয় এবং শুভানুধ্যায়ীরা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। এই কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্যেই দেবলীনা এক নতুন উপলব্ধির কথা জানান। তাঁর মতে, জীবনের সব টানাপোড়েনের মধ্যেও যে একমাত্র সুতো তাঁকে মানুষের সঙ্গে বেঁধে রেখেছে, তা হল তাঁর গান।

তাই আবার মুক্ত মঞ্চে, চেনা ছন্দে ফিরতে চান তিনি। সত্যজিৎ চক্রবর্তী নামক এক ব্যক্তির সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেবলীনা জানান, তিনি ধীরে ধীরে সঙ্গীতজীবনে ফিরছেন এবং আগের মতোই মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ চান। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের জন্য যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরই যেন জীবনের দিকে নতুন করে তাকিয়েছেন দেবলীনা নন্দী। যদিও, এতকিছু ঘটে যাওয়ার পরেও তাঁর শ্বশুরবাড়ি বা স্বামী প্রবাহ নন্দী কোনও রকম প্রতিক্রিয়া দেননি।

আরও পড়ুনঃ বাবার মৃ’ত্যু মানে কী, জানে না চার বছরের আরিয়া! শেষ বিদায়ে ছোট্ট শিশুর কন্ঠে শুধু ‘আই লাভ ইউ ড্যাডি’! প্র’য়াত সঙ্গীতশিল্পী প্রশান্ত তামাংয়ের শেষকৃ’ত্যে, মেয়ের প্রতিক্রিয়া ভেঙে দিয়েছে সবার মন!

তবে, মৃ’ত্যুর মুখোমুখি হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর দেবলীনা বুঝেছেন, আবেগের চাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই এবার নিজেকে সামলে, গানকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় এখনও পুরো থামেনি, অনেক প্রশ্নের উত্তরও মেলেনি, কিন্তু জীবন নিয়ে বড় সিদ্ধান্তটা তিনি নিয়েই ফেলেছেন। আর ভেঙে পড়া নয়, বেঁচে থাকা এবং নিজের জগতে ফিরে যাওয়াই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে জরুরি। আমাদের কামনা, গায়িকার আগামী জীবন সুখের হোক।

You cannot copy content of this page