জন্ম নিয়েছো যখন, মৃ’ত্যু অনিবার্য! তবে একটা মৃ’ত্যু কি সময়কে থামিয়ে দিতে পারে? অসম্ভব হলেও, অভিনেত্রী ‘ঐন্দ্রিলা শর্মা’র (Aindrila Sharma) চলে যাওয়ার ঘটনায় কিছুটা হলেও সময় থমকে গিয়েছিল পরিবার এবং ভালোবাসার মানুষ সব্যসাচীর জন্য। আজ বছরখানেক পর সেই আ’ঘাত, শূন্যতা আর য’ন্ত্রণার মধ্য দিয়েও মানুষকে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বাস্তবতার যে কঠিন রূপ দেখেছে শর্মা পরিবার, তাতে প্রিয় কন্যা ঐন্দ্রিলার চলে যাওয়ার পরে পরিবারকে আগলে রাখার দায়িত্ব এসে পড়েছে বড় মেয়ের কাঁধে। সেই পথ মোটেই সহজ ছিল না।
তবু সব কিছুর মাঝেই এবার জীবনে নতুন অধ্যায়ের দিকে পা বাড়াতে চলেছেন ঐন্দ্রিলার দিদি, ‘ঐশ্বর্য শর্মা’ (Aishwarya Sharma)। এই নতুন শুরুটা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পরিবারের কাছেও এক বড় স্বস্তির খবর। ঐশ্বর্য পেশায় একজন প্রশিক্ষিত শল্য চিকিৎসক। অনেকদিন ধরেই তিনি সম্পর্কে ছিলেন, সেই সম্পর্ককে এবার সামাজিক স্বীকৃতি দিতে চান তিনি। কাজের ব্যস্ততা, হাসপাতালের চাপ, সবকিছুর মধ্যেও একে অপরের পাশে থাকার অভ্যাসটাই তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানাচ্ছেন ঘনিষ্ঠ মহল।
পেশার বাইরে ঐশ্বর্যের আরও একটি পরিচয়ও আছে। চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি, তিনি মডেলিং জগতের বেশ পরিচিত মুখ। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সেইসব ছবি এবং উপস্থিতি মাঝেমধ্যেই বেশ ভাইরাল হয়। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি, পরিমিত সাজ আর স্বাভাবিক সৌন্দর্য মিলিয়ে তিনি নিজের মতো করেই আলাদা করে ধরা দেন। অনেকেই মনে করেন, মানসিকতা আর সৃষ্টিশীলতার দিক থেকে ঐন্দ্রিলার প্রতিচ্ছবি যেন কোথাও না কোথাও তাঁর মধ্যেই দেখা যায়।
সম্প্রতি ঐশ্বর্য নিজের একটি সাধারণ প্রি-ওয়েডিং শুটের ঝলক ভাগ করে নিয়েছেন, যাকে তিনি মজা করে ‘৫০ টাকার প্রি-ওয়েডিং’ বলেই উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত, শান্তিনিকেতনের কোনও বনেদী বাড়ির পরিবেশে তোলা সেই ছবিতে দেখা যায়, নীল রঙের পাঞ্জাবিতে জীবনসঙ্গী দিব্যজিৎ দত্ত আর ফুল আঁকা লাল শাড়িতে ঐশ্বর্য। জাঁকজমকের বদলে ছবিগুলোতে ধরা পড়েছে শান্ত, পরিণত ভালোবাসা। সেই ফ্রেমেই হবু বর এবং কনের পাশে দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ জানাতে দেখা গেছে মা শিখা শর্মাকেও।
আরও পড়ুনঃ ফেডারেশনের চোখে ‘অবাঞ্ছিত’ অনির্বাণ, দেবের হাত ধরে ফের নতুন ছবিতে! সাহসী সিদ্ধান্তে টলিউডে আলোড়ন! অনির্বাণকে কাস্ট করেই কি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিলেন মেগাস্টার?
এই আনন্দের মুহূর্তেও অবশ্য ঐন্দ্রিলার অনুপস্থিতি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে এক গভীর শূন্যতার কথা। ঐশ্বর্য নিজেই বহুবার বলেছেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বোনেকে তিনি অনুভব করেন। তবু জীবন এগিয়ে চলে, এই বিশ্বাস নিয়েই পরিবারের হাতে হাত রেখে নতুন পথের দিকে এগোচ্ছেন তিনি। উল্লেখ্য, ঐশ্বর্যর হবু বর দিব্যজিৎ, পেশায় চিকিৎসা জগতের মানুষ। তাদের বিয়ে নিয়ে ঐন্দ্রিলার ভক্তরাও খুব খুশি। প্রিয় অভিনেত্রীর পরিবারে আবার হাসি ফিরছে দেখে আনন্দ লুকোচ্ছেন না কেউই। এখন সকলের একটাই কামনা, এই নতুন ইনিংস হোক শান্ত, স্থির আর সুখে ভরা।






