জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানের পথটা যে কতটা অনিশ্চিত, তা ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছিল। টানা কুড়ি দিনের লড়াই শেষে ক্যা’ন্সারের কাছে হার মানেন অভিনেত্রী ‘ঐন্দ্রিলা শর্মা’ (Aindrila Sharma)। তাঁর চলে যাওয়ায় শুধু একটি তাজা প্রাণই থেমে যায়নি, থমকে গিয়েছিল একটি পরিবারের স্বাভাবিক ছন্দও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবন এগোনোর চেষ্টা করেছে সবাই, কিন্তু কিছু শূন্যতা কখনও পূরণ হয় না। বিশেষ করে মায়ের কাছে, ছোট মেয়ের অভাব প্রতিদিন নতুন করে ধরা দেয়, নতুন করে কষ্ট দেয়।
ঐন্দ্রিলার মা শিখা শর্মার (Shikha Sharma) কথায় আজও সেই শূন্যতার ভার স্পষ্ট। বড় মেয়ে ঐশ্বর্যর (Aishwarya Sharma) বিয়ে সামনে, ঘরে ব্যস্ততা, আয়োজন, আত্মীয়দের আনাগোনা সবই আছে। তবু তাঁর মন পড়ে আছে সেই মেয়ের কাছেই, যাকে ঘিরে ছিল কত স্বপ্ন। তিনি জানিয়েছেন, ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে কত আশা ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। আজ বড় মেয়ের বিয়ের আয়োজনের মধ্য দিয়েই সেই অপূর্ণ ইচ্ছেকে একটু ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ নেই, তবু মন মানে না।
পরিবারের ভিতরের দায়িত্ব বণ্টনের কথায় বারবার উঠে আসে ঐন্দ্রিলার নাম। তিনি বলেন, সংসারের বড় বড় সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ছোটখাটো বিষয়, সবেতেই ঐন্দ্রিলাই ছিল ভরসা। দিদির বিয়ের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিত সে, আজকে থাকলে। এখন সেই জায়গাটা ফাঁকা। কে সামলাচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে? সবই চলছে, কিন্তু যাঁর হাতে থাকার কথা ছিল, সে নেই! এই অনুপস্থিতিটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বড় মেয়ে ঐশ্বর্য শর্মার জীবনে শুরু হতে চলেছে নতুন অধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক, নিজের কাজের জগৎ সামলে তিনি এগোচ্ছেন ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে। আসন্ন ৩ ফেব্রুয়ারি আশীর্বাদ, তারপর বিয়ে। সেই প্রস্তুতি চলছে, পরিবার চেষ্টা করছে স্বাভাবিক থাকতে। কিন্তু ঐশ্বর্যও যে প্রতি মুহূর্তে বোনকে অনুভব করছেন, তা মায়ের কথাতেই পরিষ্কার। ছোটখাটো বিষয়েও তাঁর মুখে উঠে আসছে, “এটা তো বোনের করার কথা ছিল।” এই তুলনাগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে, সম্পর্কের গভীরতা কতটা ছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘স্লিভলেস পরতে দিত না…নিজের দোষেই সংসার টিকল না’ দাম্পত্য ভাঙনের দায় নিজের কাঁধে নিলেন সুদেষ্ণা রায়! স্বামী অত্যত ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও, কেন ভেঙে দিয়েছিলেন প্রথম বিয়ে?
সব মিলিয়ে, এই বিয়ে যেমন আনন্দের আবার একটু মনখারাপেরও। সব আছে পরিবার, আয়োজন, হাসি, তবু নেই পরিবারের সেই মিষ্টি মেয়েটা, যাকে ঘিরে এতটা ভরসা ছিল। শিখা শর্মার কথায় ধরা পড়ে সেই বাস্তব স্বীকারোক্তি, “সব আছে, শুধু আমার মিষ্টি নেই।” তবু জীবন থেমে থাকে না। স্মৃতি আর ভালোবাসা সঙ্গী করেই এগোতে হয় সবাইকে। বড় মেয়ের এই নতুন অধ্যায়ে পরিবারের একটাই চাওয়া, অতীতের কষ্ট ভুলে ভালো স্মৃতিগুলো বুকে জড়িয়ে আগামী দিনে মনখুলে বাঁচা।






