“মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম” সেই চরম শাস্তি, আজও ভোলেননি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! প্রশিক্ষণের নামে অ’ত্যাচারের কথা ফাঁস করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী! কার জন্য নষ্ট হয়েছিল তাঁর শৈশব?

পর্দায় শিল্পীরা যতটা সাবলীল, যতটা নিখুঁতভাবে নিজেদের তুলে ধরেন, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অগণিত অনুশীলন, কঠোর শাসন আর না বলা যন্ত্রণা। অভিনয়, নাচ কিংবা সংগীত—সব ক্ষেত্রেই শিল্পীদের ছোটবেলা থেকেই নিজেকে গড়ে তুলতে হয় কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। দর্শক যে ঝলমলে রূপ দেখে অভ্যস্ত, তার নেপথ্যে থাকে ঘাম, চোখের জল আর কখনও কখনও মানসিক ও শারীরিক আঘাতের স্মৃতি।

বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম উজ্জ্বল নাম সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর নাচের দক্ষতাও একসময় দর্শকের মন কেড়েছিল। খুব অল্প বয়সেই শিল্পীজগতে প্রবেশ করা সাবিত্রীকে নিয়মিত রেওয়াজ, কঠোর অনুশাসনের মধ্য দিয়েই নিজেকে তৈরি করতে হয়েছে। সেই সময়ে প্রশিক্ষণের নামে রূঢ় আচরণ বা শাস্তি নতুন কিছু ছিল না, কিন্তু কিছু ঘটনা আজও শিউরে ওঠার মতো।

ছোটবেলায় নাচ শেখার সময় সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে ঘটে যায় এমন এক অভিজ্ঞতা, যা তাঁর মনে গভীর ক্ষত রেখে যায়। বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী অতীন লালের কাছে প্রশিক্ষণের সময় নাচ করতে গিয়ে একটি ভুল করেছিলেন তিনি। সেই ভুলের জন্য এমনভাবে তাঁকে মারধর করা হয় যে সাবিত্রী অজ্ঞান হয়ে যান। ঘটনাটি শুধুই শারীরিক আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ভেঙে দিয়েছিল একজন কিশোরী শিল্পীর আত্মসম্মানও।

এই ঘটনার পর আর কখনও অতীন লালের সঙ্গে কাজ করেননি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন তাঁর বাবা। তিনি স্পষ্টভাবে অতীন বাবুকে জানিয়ে দেন, কোনওভাবেই একজন মেয়ের গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও নেই। তাঁর মেয়ে এমন কেউ নন, যাকে মারধর করে আবার মাথা নিচু করে কাজ করতে বাধ্য করা যাবে।

আরও পড়ুনঃ “বাবা আমাকে ছেলে বলেও মানতে অস্বীকার করেছিলেন, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঘরে!” কষ্টের সঙ্গে বললেন মিঠুন চক্রবর্তী! কেন বাবা সহ্য করতে পারতেন না তাঁকে? কেনই বা পরিবারের সাথে ঘটেছিল বিচ্ছেদ?

এই ঘটনার পর থেকেই সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় নিজের সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, প্রতিভা কখনও ভয় বা অপমানের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে না। এই অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, বরং শিল্পীজগতের এক অন্ধকার অধ্যায়ের দিকেও আঙুল তোলে—যেখানে প্রতিভার নামে অত্যাচারকে কখনও কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হতো।

You cannot copy content of this page