বাংলা টেলিভিশন দুনিয়ার এক অতি পরিচিত নাম লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর ধরে ছোট পর্দার দর্শকদের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে আবেগ, সম্পর্ক আর টানাপোড়েনের গল্পে। লেখিকা, পরিচালক—দু’টি পরিচয়েই সমানভাবে সফল তিনি। শুধু বিনোদন জগতেই নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সমাজ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি।
একটার পর একটা জনপ্রিয় ধারাবাহিক তাঁর কলমে জন্ম নিয়েছে। ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘কুসুমদোলা’, ‘জলনূপুর’, ‘ইচ্ছেনদী’, ‘চিরসখা’—এই সব ধারাবাহিক এক সময় টিআরপি তালিকায় রাজত্ব করেছে। বাংলার পাশাপাশি হিন্দিতেও তাঁর লেখা ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হচ্ছে। শুধু ধারাবাহিক নয়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও মাধবী মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীদের জীবনীমূলক লেখাও তিনি কলমবন্দি করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গেই এসেছে কটাক্ষও। সাম্প্রতিক ওই সাক্ষাৎকারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ দর্শক মন্তব্য করেছেন, তাঁর লেখা সিরিয়ালগুলি “পুরোটাই গল্প”, বাস্তবতার ছোঁয়া নেই। কেউ আবার লিখেছেন, “একটা বরের তিনটে বউ, একটা বউয়ের চারটে বর—এই সব কেবল লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পেই সম্ভব।” আবার কারও মন্তব্য, “সিরিয়াল যে সিরিয়াল হয়, সেটা ওঁর গল্প দেখলেই বোঝা যায়, সম্পূর্ণ অবাস্তব।”
এই সমালোচনার মাঝেই সাক্ষাৎকারে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় নিজের ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, তাঁরও ইচ্ছে ভালোবাসায় বিশ্বাস করতে, ভালোবাসতে। কিন্তু বাস্তব জীবন তাঁকে বারবার নিরাশ করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি দেখেছেন মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছে, সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভালোবাসার উপর তাঁর বিশ্বাসে ফাটল ধরেছে।
আরও পড়ুনঃ “ঠাকুরকে ভয় পাই না, যা করেছি মন থেকে!” ঈশ্বর ভাবনা নিয়ে মমতা শঙ্করের স্পষ্ট বার্তা! প্রথাগত উপাচার ছেড়ে, অভিনেত্রীর বিশ্বাসের ব্যাখ্যা ঘিরে নতুন বিতর্ক?
সমাজের এই বাস্তব চিত্রই তাঁর লেখায় উঠে আসে বলে মনে করেন লীনা। তাঁর কথায়, গল্প মানেই কল্পনা নয়, অনেক সময় সমাজের অস্বস্তিকর সত্যও গল্পের আড়ালে ধরা পড়ে। বাস্তব কঠিন বলেই গল্পে আবেগ, টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়। সমালোচনা থাকবেই, তবু নিজের দেখা সমাজকেই তিনি বারবার তুলে ধরতে চান তাঁর লেখার মাধ্যমে—এমনটাই স্পষ্ট করেছেন এই অভিজ্ঞ লেখিকা।






