“বেরোতে না পারলেই মৃ’ত্যু নিশ্চিত, এটা ঠিক কেমন স্বৈরতন্ত্র?” আনন্দপুরের ওয়াও মোমো কারখানার অ’গ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃ’ত্যুর ঘটনায়, সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন সায়ক! তাঁর প্রশ্ন, মানবাধিকারের জায়গাটা তাহলে কোথায় দাঁড়াচ্ছে?

অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি থাকলেও এখন সমাজ মাধ্যমেই সায়ক চক্রবর্তীর (Sayak Chakraborty) জনপ্রিয়তার জায়গা। তিনি এখন নিয়মিত সক্রিয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ভ্লগের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভাবনা, অস্বস্তি এবং প্রশ্ন সবকিছু খোলামেলা ভাগ করে নেন। সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতেও সেই স্বভাবসিদ্ধ স্পষ্টভাষী সায়ককেই দেখা গেল। সমাজ মাধ্যমে চর্চায় থাকা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়েই আবার আলোচনায় তিনি।

এই ভিডিওতে মূলত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক আচরণ আর চলতি ঘটনাগুলিকে একসঙ্গে জুড়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন তিনি। ভিডিওর একাংশে তিনি উল্লেখ করেন এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও কসমেটিক চিকিৎসকের কথা, যিনি কলকাতায় নতুন স্টুডিও খোলার পর থেকেই নানা ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় কটাক্ষের মুখে পড়েছেন। সায়ক বলেন, কেউ নিজের শরীর বা চেহারা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সেটাকে নিয়ে এভাবে বিদ্রূপ করা উচিত নয়।

নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝান, কিছুদিন আগে তিনিও অনলাইনে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তাই এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষের কেমন লাগে, তা তিনি আন্দাজ করতে পারেন। তবে যে প্রসঙ্গটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, তা হলো আনন্দপুরে ওয়াও মোমোর কারখানায় ভয়াবহ অ’গ্নিকাণ্ড। সায়কের কথায়, শুধু দুর্ঘটনা বলেই থেমে গেলে চলবে না, ঘটনার ভেতরের দিকগুলো ভাবলে আরও অস্বস্তি তৈরি হয়। রাতে কাজ করা শ্রমিকদের নাকি বাইরে থেকে আটকে রাখা হতো, যাতে চুরির আশঙ্কা না থাকে।

আর এই অভিযোগের কথাই তিনি তুলে ধরেন। ফলে সেদিন আ’গুন লাগার সময় বেরোতে না পেরে বহু মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে ১৬ জন, তবে সেটা ৫০ ও হতে পারে! সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও, মানবিক ক্ষতিটাই বড় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, কাজের জায়গায় নিরাপত্তা এতটাই উপেক্ষিত হলে সেটা কি কেবল অব্যবস্থা, নাকি তার চেয়েও বড় কোনও সমস্যা? এই প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে সায়ক সমাজ মাধ্যমের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বড় দুর্ঘটনার চেয়েও অনেক সময় আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত বিষয়।

আরও পড়ুনঃ “আমার ছেলে বড়লোক না হলেও চলবে, ছোট’লোক না হয়ে মানুষ হোক শুধু!” বিচ্ছেদের পর একক মাতৃত্ব, ছেলে ওসকে নিয়ে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগঘন বার্তা! প্রক্তনকে ইঙ্গিত করেই কি এই খোঁচা অভিনেত্রীর?

আর আসল সমস্যা চাপা পড়ে যায়। মানুষকে মুহূর্তে বিচার করে ফেলা, বিদ্রূপ ছুড়ে দেওয়ার এই প্রবণতাই তাঁকে ভাবাচ্ছে। তিনি বলেন, এই একই মাধ্যমেই কাজ করতে হয়, তাই এই অন্ধকার দিকটাও চোখ এড়ায় না। ভিডিওর শেষদিকে অরিজিৎ সিংয়ের অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েও মত দেন সায়ক। তাঁর মতে, নিজের শর্তে কাজ করার স্বাধীনতা আলাদা এক স্বস্তি দেয়। কিন্তু সব আলোচনার মাঝেও বারবার ফিরে আসে একটাই কথা, সমাজ মাধ্যমের ব্যবহার কোথাও যেন আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার। প্রতিক্রিয়ার বদলে দায়িত্বশীল মনোভাবই বেশি জরুরি, এই বার্তাটাই ছিল স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page