“আমাকে কেউ খোঁজে না, সবাই ভুলেই গেছে!” “ছবিকে ছবিই ভাবে, আর ব্যবসার দৃষ্টিতে দেখে না!” দশকের পর দশক পর্দায় অনন্য ছাপ রেখেছেন, আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন নিমাই ঘোষ! অবশেষে অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন চরিত্রাভিনেতা?

বাংলা বিনোদন জগতে অনেক নাম আছে, যাদের অভিনয় শুধু অভিনয় জীবনেই থেমে থাকেনি কিছু চরিত্র হয়ে থেকে গেছে আমাদের মনে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি হয়ে উঠেছে অচেনা। দর্শক তাঁদের চরিত্র মনে রাখলেও, তাঁরা নিজেই প্রায় অদৃশ্য। ক্যামেরার আড়ালে থেকে কাজ করা এই শিল্পীদের গল্প খুব কমই আলোচনায় আসে। তাদের মধ্যে একজন, যিনি কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমার অংশ হয়ে থেকেছেন, তিনি হলেন নিমাই ঘোষ। এই তারকা নয়, বরং চরিত্রাভিনেতা, যাঁর নাম আজও অনেকের জন্য অচেনা।

নিমাই ঘোষ বাংলা ছবিতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ২০০-এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’, ‘বব বিশ্বাস’, ‘তিরন্দাজ শবর’-এর মতো ছবির চরিত্রে তাঁর মুখ দর্শকের মনে রয়েছে। শুধু সিনেমাই নয়, মৃণাল সেন, সন্দীপ রায়, বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। টেলিভিশনের ধারাবাহিক ‘জন্মভূমি’-তেও তাঁর উপস্থিতি দর্শক মনে আজও রয়ে গেছে।

কিন্তু এই দীর্ঘ পথচলায় নিমাই ঘোষ প্রায় ভুলে যাওয়ার পথে। বহু ছবিতে কাজ করেও নিয়মিত পারিশ্রমিক পাননি তিনি। “পরে দেওয়া হবে” বা কখনোই না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে নতুন নয়। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখা কবিতার বই ‘পথিক দ্বারাও’-র রয়্যালটিও মেলেনি, যা অর্থনৈতিকভাবে আরও সংকট তৈরি করেছে।

বর্তমানে তিনি একটি সরকারি আবাসনের ছোট্ট ঘরে একাকী দিন কাটাচ্ছেন। আলো-বাতাস সীমিত, কাজের সুযোগ কম, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া চালানোও একপ্রকার সংগ্রাম। একসময় বাংলা সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন, কিন্তু আজ তাঁকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির তেমন কোনো খোঁজ নেই।

আরও পড়ুনঃ “বেরোতে না পারলেই মৃ’ত্যু নিশ্চিত, এটা ঠিক কেমন স্বৈরতন্ত্র?”, আনন্দপুরের ওয়াও মোমো কারখানার অ’গ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃ’ত্যুর ঘটনায়, সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন সায়ক! তাঁর প্রশ্ন, মানবাধিকারের জায়গাটা তাহলে কোথায় দাঁড়াচ্ছে?

নিমাই ঘোষ সম্প্রতি বলেছেন, “ছবিকে যারা ছবি হিসেবে ভাবে, কিন্তু ছবিকে যারা ব্যবসার ভিত্তিতে ভাবেন তারা আমাকে খোঁজে না।” এই কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, তাঁর মতো শিল্পীদের কষ্ট, পরিশ্রম এবং সৃষ্টির প্রতি যথাযথ স্বীকৃতি অনেক সময়ই মেলে না। যে ব্যক্তি সারাজীবন পর্দার আড়ালে থেকে দর্শককে বিনোদন দিয়েছেন, তাঁর জন্য ইন্ডাস্ট্রির পাশে থাকার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। নিমাই ঘোষের এই বক্তব্য শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন শিল্পের অচেনা শিল্পীদের প্রতি একটি গভীর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—আমরা কি সত্যিই তাঁদের মূল্য জানি, নাকি কেবল চরিত্র মনে রাখলেই সব শেষ?

You cannot copy content of this page