বাবা ছিলেন বাংলা ছবির কিংবদন্তি, অথচ সফলতার আলো পেল না ছেলে! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরাধিকার হয়েও কেন আড়ালেই থেকে গেলেন সৌগত চট্টোপাধ্যায়? আজ কোথায় তিনি, কীভাবেই বা কাটছে তাঁর জীবন?

নিশ্চুপ আলোর মতোই কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের নাম উচ্চারিত না হলেও তাঁদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। এমনই একজন মানুষ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও তাঁর পরিবারকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আজও কম নয়। কিন্তু সেই আগ্রহের মাঝেও এমন একজন রয়েছেন, যিনি ইচ্ছে করেই থেকেছেন আড়ালে। আলো, প্রচার বা শিরোনামের দৌড়ে কখনোই নাম লেখাননি তিনি। অথচ তাঁর জীবন ও কাজের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে এক অন্যরকম শিল্পীসত্তা।

২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর পরিবারে নেমে আসে গভীর শূন্যতা। তার ঠিক চার মাসের মধ্যেই চলে যান তাঁর স্ত্রী দীপা চট্টোপাধ্যায়। মা–বাবাকে হারিয়ে পরিবারের দায়িত্ব একা হাতে সামলাতে হয় কন্যা পৌলমী বসুকে। নাট্যজগতের পরিচিত মুখ পৌলমী মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে এলেও, একই পরিবারে থেকেও সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটেছেন সৌমিত্র–পুত্র সৌগত চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই বললেই চলে।

১৯৬০ সালের ১৮ এপ্রিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও দীপা দেবীর বিবাহ হয়। তার পরের বছর, ১৯৬১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নেন তাঁদের একমাত্র পুত্র সৌগত। আদর করে বাড়িতে তাঁকে ‘বাবু’ বলেই ডাকা হত। সাহিত্য আর সংস্কৃতির আবহেই বড় হওয়া সৌগত ছোট থেকেই বই, গান আর ভাবনার জগতে ডুবে থাকতে ভালোবাসতেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর সংগীতচর্চায় মন দেন তিনি।

সংগীতের টানে লন্ডনে গিয়ে রয়াল স্কুল অফ মিউজিক থেকে বেহালা বাদনে গ্রেড ফাইভ, সিক্স ও সেভেনে উত্তীর্ণ হন সৌগত। পরে চলচ্চিত্র পরিচালনার ইচ্ছায় টলিউডে পা রাখেন। তপন সিনহা পরিচালিত ‘অন্তর্ধান’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। আরও কয়েকটি ছবির সঙ্গে যুক্ত হলেও পরিচালক হিসেবে সাফল্য ধরা দেয়নি। তবে থেমে থাকেননি তিনি।

আরও পড়ুনঃ “স্বামী সঙ্গে থাকেন না, ছেলেকে ঠিক করে মানুষ করতে…” তিন দশকের অভিনয়জীবন, মাঝপথে বিরতি, আবার প্রত্যাবর্তন! ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে কেমন আছেন পুষ্পিতা মুখার্জী? সংসারে অশান্তির ছায়া? ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী?

আজ সৌগত চট্টোপাধ্যায় পরিচিত একজন কবি, লেখক, অনুবাদক ও বেহালাবাদক হিসেবে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ১৪টি কাব্যগ্রন্থ। কয়েক বছর আগে একটি অনুবাদ কবিতার সংকলনে অনুবাদক হিসেবেও তাঁর কাজ নজর কেড়েছিল। সেই বইটি মৃত্যুর কিছুদিন আগেই পড়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বাবার ছায়া নয়, বাবার স্মৃতি বুকে নিয়েই প্রচারবিমুখ, নিভৃতচারী এক সাহিত্যিক জীবন বেছে নিয়েছেন সৌগত। নীরবতাতেই তাঁর ঠিকানা।

You cannot copy content of this page