“দুই একটা ‘ডেপো ছেলেদের’ জন্যই সমাজ মাধ্যমের ভালো দিকগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে!” “বাংলার মানুষও বুঝে গেছে, এগুলো হুজুক তোলা ছাড়া কিচ্ছু নয়!” কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়ক ও শমীকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে কুনাল ঘোষের কড়া সমালোচনা!

সাম্প্রতিক সময় সামাজিক মাধ্যমে একটা পর একটা এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা অনেক মানুষের মনকেই বিচলিত করছে। পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় ইনফ্লুয়েন্সার ও অভিনেতা ‘সায়ক চক্রবর্তী’কে (Sayak Chakraborty) মাটনের বদলে ‘বি’ফ’ খাওয়ানোর কাণ্ড ঘিরে নেটমাধ্যমে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। রেস্তোরাঁর এক কর্মী গ্রেফতারও হন আর সায়কের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এই ঘটনা শুধু সংবাদের শিরোনামই হয়নি, এটি সাধারণ মানুষকেও ভাবিয়ে তুলেছে কনটেন্ট এবং নৈতিকতার সম্পর্ক নিয়ে!

কিছুদিনের মধ্যে, সায়ক ঘোষণা করেন যে তিনি রেস্তোরাঁর কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ তুলে নিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি কনটেন্ট বানানোর ক্ষেত্রে আরও সচেতন হবেন বলেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত কিছুটা শান্তি ফিরিয়েছে, তবে সায়কের বিরুদ্ধে নতুনভাবে যৌ*ন হে’নস্থার অভিযোগও সামনে আসেছে! সমাজ মাধ্যমে এই ধরণের ঘটনাগুলো নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, যা কেবল ব্যক্তিগত নয়, সমাজের নজরেও এসেছে।

এখন এই তালিকায় নাম যুক্ত হয়ছে আরও এক ইনফ্লুয়েন্সার “ননসেন” শমীক অধিকারীরও (Shamik Adhikary)। শমীককে নিয়ে বি’স্ফোরক অভিযোগ উঠে, যে তার বান্ধবীকে নাকি দুদিন আটকে রেখে শা’রীরিক নি’র্যাতন এবং যৌ*ন হে’নস্তার করেছিল সে। গত বৃহস্পতিবার শেষ পর্যন্ত শমীককে গ্রেফতার করা হয়। এই ধরণের ঘটনা যেন আবার মনে করিয়ে দিল যে কেবল জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার থাকা মানেই সামাজিক দায়িত্ববোধ থাকবে, এমনটা নয়!

এই ধরনের সামাজিক দৃষ্টিকোণ নিয়ে মতামত জানতে চাইলে, তৃণমূলের মুখপত্র ‘কুণাল ঘোষ’ (Kunal Ghosh) শমীককের বিষয়ে তেমন কিছু না বললেও, সায়কের প্রসঙ্গে বলেন, “একটা ডেপো ছেলে! কলকাতায় থেকে কোথায় গ’রুর মাং’স পাওয়া যায়, সেখানে খুঁজে খুঁজে খেয়ে গিয়ে হিন্দুত্ব দেখাচ্ছে! এতই যদি চিন্তা, তাহলে গেছিল কেন? এই দুই একটা ডেপো ছেলেদের জন্যই সমাজ মাধ্যমের ভালো দিকগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে! বাংলার মানুষও বুঝে গেছে যে এগুলো হুজুক তোলা ছাড়া কিচ্ছু নয়, তাই তাদের মনে এসব দাগ কাটতে পারবে না।

আরও পড়ুনঃ “আরজে হওয়া শেখানো যায় না, এটা ভিতরে থাকতে হয়… কপি করে কেউ কখনও প্রকৃত শিল্পী হতে পারে না”—বোরোলিনের বিজ্ঞাপনে আজও অমলিন সেই কণ্ঠ, কপি-সংস্কৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মৌলিকতার বিরুদ্ধে সরব জিঙ্গলস কুইন শ্রাবন্তী মজুমদার!

আজীবন এখানে সব ধর্ম একসঙ্গে থেকে এসেছে। এখনও একজনের রক্তের দরকার পড়লে কেউ ধর্ম বিচার করবে না রক্ত নেওয়ার আগে। কাজেই এসব করে লাভ নেই।” তাঁর মন্তব্যে ক্ষোভ থাকুক বা উপদেশ, কিন্তু অস্বীকার করার জায়গা নেই যে এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, জনপ্রিয়তার সঙ্গে দায়িত্ববোধের সামঞ্জস্য রাখা কতটা জরুরি! মানুষের মন ও সামাজিক মূল্যবোধের দিকে খেয়াল না রাখলে এই ধরনের কাণ্ডে নাম আসতেই থাকবে। তাই সৃষ্টিশীল বা জনপ্রিয় ব্যক্তি হওয়া মানেই দায়বদ্ধ আচরণও জরুরি!

You cannot copy content of this page