“মা রোজই মা’র খেতেন, আমিও বাবার হাতে অ’ত্যাচারিত হয়েছি…আমিই নাকি ওদের সম্পর্ক ভাঙার জন্য দায়ী!” তিক্ত শৈশবের স্মৃতি আর অতীতের যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়! মায়ের উপর অ’ত্যাচারের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি?

মধ্যবিত্ত সমাজে নারী অত্যাচারকে অনেক সময় স্বামীর স্বাভাবিক কর্তৃত্ব মনে করা হয়। ঘরে বাইরে নারীকে নির্যাতন, মানসিক চাপ এবং সামাজিক ভীতি প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ও স্বাধীনতার পথ বন্ধ করে দেয়। এমন বাস্তবতার মধ্যে যারা নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করে, তাদের গল্প কখনোই অগোচরে থাকে না বরং সেই গল্প একটা সময় বেরিয়ে আসে সমাজের সামনে।

অভিনেত্রী স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি সোচ্চার হয়েছেন এবং সোজাসাপ্টা কথা বলার মাধ্যমে নিজের কষ্টময় অতীত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানন, “আমার বাড়িতে নারী অত্যাচার প্রায় স্বাভাবিক বিষয় ছিল। মা প্রায় রোজই মার খেতেন, আর ঠাকুমা আমাকে আলাদা করে সরিয়ে রাখতেন।” অভিনেত্রীর বলা কথাগুলো সমাজের অনেক মানুষকে অবাক করেছে, কারণ তিনি নিজের ব্যক্তিগত কষ্টকে লুকিয়ে রাখেননি।

স্বরলিপি আরও জানালেন, বড় হতে হতে তিনি বাবার এই আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন। বাবা মার হাতে তিনি নিজেও মার খেতেন, তবে চুপ থাকতেন না। এক পর্যায়ে এতটাই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন যে নিজে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। কারণ তার মতে, অত্যাচারের প্রতিবাদ শুধু তার নয়, বরং পরিবার ও সমাজের দাম্পত্য জীবনের উপরও প্রভাব ফেলছে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, ক্লাস ৯-এ পড়াকালীন বাবা তার ভৌতবিজ্ঞানের বই ছিরে দেন। ১৯৯৯ সালেই তিনি ভেবেছিলেন পালিয়ে যাবেন। কিন্তু তারপরে ধীরে ধীরে অভিনেত্রী বুঝতে পারেন, নারী অত্যাচার থেকে মুক্তির পথ পালানো নয়, বরং নিজের শিক্ষা ও স্বাধীনতার মাধ্যমে জীবনকে আলোকিত করা সম্ভব। বিদ্যাসাগরকে আদর্শ মানে তিনি নিজের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে তৈরি করতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ “মা, দাসী আনতে যাচ্ছি…এই কথাতেই সমাজের নোং’রা মানসিকতা ফুটে ওঠে!” “একে তো অনৈতিক কন্যাদান, তারপর গোত্রান্তর করে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলে!” চিরাচরিত বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তুলে, বি’স্ফোরক অরুণ ব্যানার্জি! সত্যিই কি নারীর পরিচয় মুছে ফেলছে সমাজ?

স্বরলিপির গল্প শুধু ব্যক্তিগত কাহিনী নয়, এটি মধ্যবিত্ত সমাজের নারীদের জন্য এক বার্তা। শিক্ষা এবং সচেতনতা ছাড়া মানসিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই অসম্ভব। এই ছোট্ট মেয়েটি আজ একজন সফল অভিনেত্রী এবং সমাজের কাঁধে দাঁড়িয়ে বলছেন, নারীরা নিজের ক্ষমতায় বিশ্বাস রাখলে যে কোনো অন্ধকারকে তারা আলোতে পরিণত করতে পারে।

You cannot copy content of this page