“ওহ, মনে হল জেলখানা থেকে বেরিয়েছি!” “নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি, পরজন্ম বলে কিছু হলে…” কেন হঠাৎ জীবনকে ‘জেলখানা’ মনে হচ্ছিল শিল্পীর? নিজের জীবন নিয়ে অকপট মমতা শঙ্কর!

বর্তমান সমাজ নিয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশের জন্য নৃত্যশিল্পী তথা অভিনেত্রী ‘মমতা শঙ্কর’ (Mamata Shankar) বরাবরই নেট নাগরিকদের আলোচনায় জায়গা দখল করে রেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়েও সাদা শাড়িতে এক বাঙালি মেয়ের বিয়ে ঘিরে তাঁর নানান মন্তব্য নিয়েও কম চর্চা হয়নি। তবু সমালোচনার আশঙ্কা তাঁকে থামাতে পারেনি। তাঁর বিশ্বাস, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে শুধু নিজের কথা বলার অধিকার নয়, ভিন্ন মতকেও মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দেয়, কিন্তু তিনি নিজের অবস্থান বদলানোর পক্ষে নন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনযাপন আর পারিবারিক পরিবেশের প্রসঙ্গ তুলতেই অন্য একদিক সামনে আনলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার সব সময় মনে হয় যে, এমন বাড়িতে জন্মেছি আর এমন বাবা-মা পেয়েছি। এরম দাদা, কাকা-কাকিমা সবাইকে পেয়েছিল। তারপর এমন শ্বশুরবাড়ি পেয়েছি, যেখানে আমার অবাধ স্বাধীনতা। উল্টে আমার বাপের বাড়িতে ছিল ভীষন কড়া শাসন। শ্বশুরবাড়িতে এসে আমার তাই মনে হয়েছিল, ‘ওহ, জেলখানা থেকে বেড়িয়েছি!'” এই কথাতেই স্পষ্ট, দুই বাড়ির পরিবেশ তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে কতটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, শিল্পী পরিবারে জন্ম হওয়া, নৃত্যগুরু পন্ডিত উদয় শঙ্করের কন্যা হিসেবে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনার ভিত মজবুত করেছে বলেই মনে করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই শিল্প, শৃঙ্খলা আর মূল্যবোধের পরিবেশে বড় হওয়া তাঁকে একদিকে দৃঢ় করেছে, অন্যদিকে নিজস্ব মত প্রকাশে নির্ভীক হতে শিখিয়েছে। তবে তাঁর কথায় বোঝা যায়, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে এসে স্বাধীনতার স্বাদ তাঁকে আরও আলাদা অনুভূতি দিলেও, মূল্যবোধের স্থির থাকতে শিখিয়েছে।

নিজের সংসার নিয়েও তাঁর কথায় কৃতজ্ঞতার সুর স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমার স্বামী থেকে শুরু করে শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ প্রত্যেকেই খুব ভালো। এতটাই নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি যে, পরের জন্ম বলে কিছু হলে আমি একটা জিনিসও পাল্টাতে চাইতাম না! ঈশ্বরের আশীর্বাদে যেমন দুটো ছেলে আর বৌমা পেয়েছি, নাতি পেয়েছি তাতে আমার মনে হয় কিচ্ছু পাল্টানোর প্রয়োজন নেই। তবে, এরপর আমরা কোথায় যাব কেউ বলতে পারে না।” পরিবার, সম্পর্ক আর প্রাপ্তির জায়গা থেকে তাঁর এই সন্তুষ্টি তাঁকে জীবনের প্রতি ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ “ইন্ডাস্ট্রিতে দুই নায়িকা শত্রু হলেও, কখনও বন্ধু হতে পারে না…এই ধারণা ভেঙেছিলাম আমরা, প্রমাণ করেছি আজীবন পারে!” প্রিয় বান্ধবী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে স্মৃতিচারণায় সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা, অটুট বন্ধুত্ব! অভিনেত্রী ভাগ করলেন কোন স্মৃতি?

এই কথা যদিও প্রত্যেকবার তিনি স্বীকার করেছেন। এমনকি তার মত প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে জেনে, পরিবারের তরফের সাবধানতার কথাও তিনি জানান। বিতর্কের বাইরে মমতা শঙ্করের জীবনে রয়েছে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের বোধ। নিজের মতের পক্ষে দৃঢ় থাকা, আবার ব্যক্তিগত জীবনের প্রাপ্তিগুলোকে মূল্য দেওয়ার মেলবন্ধনই তাঁর ব্যক্তিত্বকে আলাদা করে তোলে। আলোচনার ঝড় উঠলেও তিনি নিজের ভাবনাকে লুকিয়ে রাখেন না, বরং সেগুলোকেই জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেন।

You cannot copy content of this page