“পাবলিক সার্ভিস কমিশনে অভিনেতা?” “এবার কি পরীক্ষায় বাংলা ধারাবাহিক নিয়েও প্রশ্ন আসবে?” যোগ্য প্রার্থীরা লাইনে, বোর্ডে জায়গা পাচ্ছেন সেলিব্রিটি! কমিশনের সদস্য পদে দিগন্ত বাগচীর নিয়োগ ঘিরে তুমুল বিতর্ক! সমালোচনার জবাবে কী বললেন অভিনেতা?

পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম ঘোষণা হতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান পদে থাকা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস দেবল রায়। তাঁর সঙ্গে নতুন করে আরও কয়েকজন সদস্য মনোনীত হয়েছেন কমিশনে। তবে এই তালিকায় ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর নাম সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশাসনিক নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় একজন অভিনেতার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ প্রশ্ন তুলছেন তাঁর যোগ্যতা নিয়ে, কেউ আবার রসিকতার সুরে বলছেন এখন নাকি পরীক্ষার আগে বাংলা সিনেমা সম্পর্কেও পড়াশোনা করতে হবে। অনেকেই জানতে চাইছেন কোন বিশেষ কারণে তিনি এই দায়িত্ব পেলেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এমন প্রশাসনিক পরিসরে তাঁর উপস্থিতি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে। ফলে নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে কৌতূহল ও বিতর্ক দুইই সমানতালে বাড়ছে।

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে দিগন্ত বাগচী অবশ্য খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন না, তাই কে কী বলছেন সে বিষয়ে তেমন অবগত নন। তাঁর কথায় এটি একটি সম্মানসূচক দায়িত্ব, এর আগে অন্যরাও এই ধরনের পদে থেকেছেন। তিনি মনে করেন এই দায়িত্বকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। বরং যে সময়টুকু তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন, সেটুকু সৎভাবে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।

অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই পদ পেয়েছেন অভিনেতা। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনও বিরোধে যেতে চান না। তিনি জানিয়েছেন মানুষ তাঁদের মত প্রকাশ করবেনই, সেটাই স্বাভাবিক। তিনি সকল মতামতকে সম্মান জানানোর কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন এই পদ স্থায়ী নয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চান তিনি।

আরও পড়ুনঃ “পুতুলগুলোই আমাকে খাওয়াচ্ছে, তারাই জোগায় দুমুঠো অন্ন!” মাত্র ৫০০ টাকার জন্য পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেলেনি পারিশ্রমিক! হাসি ও করতালির আড়ালে লুকিয়ে থাকা তীব্র সংগ্রামের গল্প শোনালেন, মীরাক্কেলের পলাশ অধিকারী! বর্তমান পরিস্থিতিতে কেমন আছেন তিনি?

কমিশনের কাঠামো অনুযায়ী মূল প্রশাসনিক দায়িত্ব চেয়ারম্যানের উপরেই থাকে, অন্য সদস্যরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেন। তবুও প্রাক্তন আমলা ও বিভিন্ন মহলের একাংশের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডে সাধারণত অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ বা প্রশাসনিক পেশাজীবীদের দেখা যায়। আবার শাসকদলের তরফে বলা হয়েছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ প্রশাসনে যুক্ত হলে তা গণতান্ত্রিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করে। ফলে এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আলোচনা যে আরও চলবে, তা স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page