“পাত্রপক্ষের সামনে গান গাওয়া ছিল রীতি…গান ছিল পারিবারিক ঐতিহ্য!” বাংলা জন্ম দিয়েছে বিশ্ব সেরা কণ্ঠশিল্পীদের! এখন থেকেই কেন উঠে আসেন একের পর এক কিংবদন্তি গায়ক? সুরের সাম্রাজ্য গড়ার নেপথ্য, কারণ ব্যাখ্যায় কুমার শানু!

ভারতীয় সঙ্গীতজগতের (Indian Music History) যে সমৃদ্ধ ইতিহাস, তার দিকে তাকালে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বাংলা থেকে উঠে আসা শিল্পীদের প্রভাব আর জনপ্রিয়তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। শচীন দেব বর্মন থেকে আর ডি বর্মন, কিশোর কুমার থেকে কুমার শানু (Kumar Sanu), বাবুল সুপ্রিয়, শান কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের অরিজিৎ সিং। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁদের কণ্ঠে টলিউড হোক বা বলিউড, ভরসা খুঁজে পেয়েছে! এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে কি কেবল প্রতিভা, নাকি রয়েছে আরও গভীর কোনও সাংস্কৃতিক ভিত?

এই প্রশ্নই সম্প্রতি করা হয়েছিল কুমার শানুর কাছে। কুমার শানু তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বাংলার সামাজিক পরিবেশের কথাই তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই রাজ্যে সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, বরং জীবনযাপনের অংশ! এক সময় পাত্রপক্ষ যখন কোনও মেয়েকে দেখতে যেত, তখন গান গাইতে বলা ছিল প্রায় নিয়মের মতো। সেই প্রথার মধ্যে দিয়েই যেন স্পষ্ট যে গান জানা বা গানের চর্চা থাকা কতটা মূল্যবান ছিল সামাজিক পরিসরে।

সঙ্গীত যেন ছিল ব্যক্তিত্বের পরিচয়ের অংশ। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, বাংলার বহু বাড়িতেই ছোটবেলা থেকে তানপুরা, হারমোনিয়াম বা তবলার উপস্থিতি খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। সবাই পেশাদার শিল্পী হন না, কিন্তু সুরের সঙ্গে একটা নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয় অল্প বয়সেই। পড়াশোনার পাশাপাশি গান শেখা এখানে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলে সঙ্গীতচর্চা কোনও আলাদা বিষয় নয়, বরং বড় হয়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

আশ্চর্যের বিষয়, কুমার শানু নিজেও শুরুতে গায়ক হিসেবে নয়, বরং তবলা বাজানোতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন! সেখান থেকেই সঙ্গীতের ভিত মজবুত হয়। অর্থাৎ, যাঁরা পরবর্তীতে বড় মাপের গায়ক হয়েছেন, তাঁদের অনেকেরই শুরুটা ছিল নিয়মিত রেওয়াজ আর ঘরোয়া পরিবেশে সুরের চর্চা দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতাই ধীরে ধীরে বড় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে তাঁদের। বাংলায় সঙ্গীতের যে ঐতিহ্য ও আবহ বহুদিন ধরে গড়ে উঠেছে, তা হয়তো এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুনঃ “খলনায়িকা হয়েও নিজেকে খুঁজেছি…নেতিবাচক চরিত্রের গণ্ডি ভাঙতে চেয়েছিলাম!” দীর্ঘ বিরতির পর, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-য় মুখ্য ভূমিকায় শ্বেতার প্রত্যাবর্তন! ছোটপর্দায় নতুন ইনিংস শুরু নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?

তাই বারবার দেখা যায়, বাংলা শুধু শিল্পী দেয় না, দেয় সুরের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ। এখানকার মানুষ গানকে পেশা হিসেবে নিক বা না নিক, এখানে গান শেখা কেবল প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বরং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হয়। আর সেই মাটির টানেই জাতীয় মঞ্চেও বারবার বাংলার শিল্পীরা আলাদা করে নিজেদের পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হন। তাই একের পর এক প্রজন্ম থেকে এই নামগুলো উঠে আসা কাকতালীয় নয়, বরং একটি দীর্ঘ সাংস্কৃতিক চর্চার ফল!

You cannot copy content of this page