চলতি বছরের শুরু থেকে এই সমাজ মাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রে গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy) এবং তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দী। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন যে এতদূর গড়াতে পারে, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। বিয়ের কিছু মাসের মধ্যেই সম্পর্কের ভাঙন, মানসিক অশান্তি এবং আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। দেবলীনার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মা’নসিক ও শা’রীরিক নি’র্যাতনের শিকার হয়েছেন। মাঝখানেক আগেই ৭৮টি ঘুমের ওষু’ধ খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এরপর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।
সম্প্রতি জানা গিয়েছে, দেবলীনা কাজে ফিরতেই নাকি, স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নি’র্যাতনের মামলা করেছেন এবং দাবি করেছেন মোটা অঙ্কের টাকাও! যদিও তিনি নিজে সরাসরি এই বিষয়ে মুখ খোলেননি, তবু তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমনকি নোটিস পাওয়ার পর প্রবাহ তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে থানায় হাজির হন এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা আদালতে ওঠেনি, তবে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি আইনি পথে ঠিক দিকেই এগোচ্ছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সমাজ মাধ্যমে সরব হয়েছেন, বিশিষ্ট আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস। নিজের ফেসবুকের পাতায় ‘ভয়েস অফ ভয়েজলেস’ (Voice of Voiceless) নামে পোস্ট করা ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি একতরফাভাবে দেখার প্রবণতা ঠিক কি না। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা বিচারাধীন হলেও, সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ্য মন্তব্য বা ভিডিওর মাধ্যমে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট হলে সেটিও আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, যদি সত্যিই বধূ নি’র্যাতনের মামলা করা হয়ে থাকে, তবে প্রবাহও পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখেন!
এছাড়াও, আইনজীবীর ব্যাখ্যায় উঠে আসে একাধিক সম্ভাব্য আইনি পথ। তাঁর মতে, প্রবাহ চাইলে ‘restoration of conjugal rights’-এর মামলা করতে পারেন। বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনও জানাতে পারেন, এমনকি মানহানির অভিযোগও তুলতে পারেন। পুরনো আইপিসি-র ৪৯৮(এ) ধারা, যা এখন পরিবর্তিত আইনি কাঠামোর আওতায় এসেছে, সেটির অপব্যবহার নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যেমন আইনের আওতায় বিচারযোগ্য, তেমনই বিপরীত দিক থেকেও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অহংকার না আইনি অধিকার? প্রথমে ২ কোটির মানহানির মামলা করেন মিমি! জেল থেকে বেরিয়েই তাই ২০ লক্ষের পাল্টা দাবি তনয় শাস্ত্রীর! টাকার অঙ্ক বাড়তেই, বনগাঁর ঘটনাকে ঘিরে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক জল্পনাও?
তিনি বলেন, দাম্পত্যের সমস্যা থাকলে আগেই আইনের দ্বারস্থ হওয়া উচিত ছিল। আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টা নিয়ে ভিডিও এবং পরবর্তীতে তার পরিবারের তরফ থেকে প্রবাহকে ঘিরে যেমন কথা সামনে উঠে এসেছে, সেটাও আইনের চোখে অপরাধের। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে খোরপোষ সংক্রান্ত দাবি নিয়েও আইনি লড়াই জটিল আকার নিতে পারে। তবে শেষ কথা আদালতের। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউই দোষী নন, এই মৌলিক নীতিই এখানে প্রযোজ্য। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন এখন আইনি পরিসরে পৌঁছেছে আর সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনমত যতই তৈরি হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার উপর।






