বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবন—সম্পর্কের ভাঙা-গড়া এখন আর নতুন কিছু নয়। প্রেম, বিয়ে, তারপর মতের অমিল—সব মিলিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে যখন দু’জনেই কর্মজীবী ও স্বনির্ভর, তখন বিবাহবিচ্ছেদের পর আর্থিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আরও বেশি। অ্যালুমিনি বা খোরপোশ নিয়ে সমাজে নানা মতভেদ থাকলেও, বিষয়টি যে সংবেদনশীল—তা বলাই বাহুল্য।
এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি টলিউড অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক-এর প্রাক্তন স্ত্রী। তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে বহুদিন আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছেন কাঞ্চন ও পিংকি। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন পেরিয়ে এখন দু’জনেই নিজেদের মতো পথ চলছেন। এই পরিস্থিতিতেই অ্যালিমনি নিয়ে নিজের মত স্পষ্ট করলেন পিংকি।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি কোনও মহিলা স্বনির্ভর হন এবং নিজে উপার্জন করতে সক্ষম হন, তাহলে স্বামীর কাছ থেকে অ্যালুমিনি নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, এই আইনের ভাল-মন্দ দু’দিকই আছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এই আইনের পক্ষেই যাব।” কারণ, অ্যালুমিনি পেতে গেলে অনেক প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সব ক্ষেত্রেই যে তা প্রয়োজনীয়, এমনটা তিনি মনে করেন না।
তবে সন্তানের দায়িত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। পিঙ্কির বক্তব্য, “একটা সন্তান তো দু’জনেরই। স্ত্রী যদি সক্ষম হন, তাঁকে অ্যালুমিনি না-ও দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব থেকে বাবা সরে দাঁড়াতে পারেন না।” তাঁর মতে, সন্তানের লালনপালন, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের খরচ—এসব ক্ষেত্রে বাবা-মা দু’জনেরই সমান দায়িত্ব থাকা উচিত।
আরও পড়ুনঃ “ফলোয়ার বাড়লেই বড় হওয়া যায় না, সিনিয়রকে অসম্মান মানেই নিজেকে ছোট করা…জনপ্রিয়তা সাময়িক, সম্মান চিরস্থায়ী!” সম্মান কেড়ে নেওয়া যায় না, অর্জন করতে হয়! রাহুল-অনন্যা দ্বন্দ্বে জয়জিতের কড়া মন্তব্য! রাহুলের পাশে নীরব সমর্থন, অনন্যাকে পরোক্ষ তির?
অভিনেত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে অ্যালুমিনি ও যৌথ দায়িত্বের বিষয়টি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে বলা তাঁর কথায় অনেকেই বাস্তবের প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন। সম্পর্ক ভাঙলেও দায়িত্ব যেন না ভাঙে—এই বার্তাই যেন দিতে চাইলেন পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়।






