বাংলায় নির্বাচন আসন্ন, এই পরিস্থিতিতে রাজনীতির প্রেক্ষাপটে হঠাৎ কিছু ঘটনা এমনভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে যে সাধারণ মানুষও তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। কখনও কখনও একজন যুবনেতার আচরণও, দলের ভিতরে চলমান সংঘাত বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত একসময় সমগ্র রাজনীতির রঙ বদলে দিতে পারে। ঠিক এমনই বামপন্থী তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানের দলত্যাগের জল্পনা, সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরব হয়েছেন বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ, তথা দীর্ঘদিন ধরে বামমনস্কতা ও সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার জন্য পরিচিত অভিনেত্রী ‘ঊষসী চক্রবর্তী’ (Ushasi Chakraborty)। এদিন ‘জুন আন্টি’ তাঁর পোস্টে সরাসরি নাম না নিয়েই সেই যুবনেতার আচরণকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, একসময় যাকে দলের “অ্যাসেট” বলে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন, আজ তাকে যেন “পচে যেতে” দেখার কষ্ট তার মনের ভিতর এক শূন্যতা তৈরি করেছে!
এদিন অভিনেত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি দলের সদস্য নন, তবু একটি যুবনেতাকে এতদিন শ্রদ্ধার আসনে বসানো এবং তার মতো লড়াকু হতে না পারার জন্য নিজের জীবনে হতাশার অনুভূতি রাখতেন। তিনি বলেন, লড়াই কঠিন এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সাধারণ বাঁধার মধ্যে থেকে দলের কর্মীদের নিঃশর্ত প্রচেষ্টা নিয়ে কিছু বলতে পারা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবু তিনি বেদনার সঙ্গে কয়েকদিন ধরে এই ঘটনা বয়ে চলেছেন।
এছাড়াও তিনি যুবনেতার প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন, “নিজের অভিমানকে পার্টির প্রতি আক্রমণ হিসেবে ব্যবহার না করে যারা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাদের ঢাল হওয়া উচিত নয়।” ঊষসী আরও উল্লেখ করেছেন যে রাজনৈতিক মহলে এমন ঘটনা দলকে বিপন্ন করতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলের ভোটশক্তি অতিরিক্তভাবে বাড়াতে পারবে না! তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “শূন্য দল থেকে এত নেতা ধার নেওয়ার প্রয়োজন কেন?”
আরও পড়ুনঃ “আমাদের উপরেই ছবিটা দাঁড়িয়ে, তবু হিরোদের নামেই ছবি বিক্রি হয়…এখনো পুরুষতন্ত্রই নিয়ন্ত্রণ করে সিদ্ধান্ত!” টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার বৈষম্য নিয়ে বি’স্ফোরক কৌশানি মুখার্জি! হিরোর নামেই বাজার, বদল আনতে চান অভিনেত্রী! নায়িকাদের অধিকার নিয়ে কি প্রশ্ন তুললেন?
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতির একটা ইতিবাচক দিকও তিনি খুঁজে বের করেছেন। আচমকা বামের শূন্যতা এবং সেই দলের যুবনেতাদের প্রাসঙ্গিক হওয়া যেন নতুন আলোকে রাজনীতির মঞ্চে ফুটিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, দলত্যাগ করলে বামের আত্মবিশ্বাস কিছুটা কমতে পারে, তবে অন্যদের ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করবে না। এই সব প্রশ্নের উত্তর যদিও সময়ই দেবে, কিন্তু সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই ঘটনাটি ইতিমধ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।






