‘ওর মতো অভিনেতাদের চিরকাল থামিয়ে রাখা যায় না!’ টলিউডে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ‘নিষিদ্ধতা’, দীর্ঘদিন ধরে কাজ না পাওয়া এবং ফেডারেশন-পরিচালক দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুললেন চন্দন সেন! নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে, টলিউডের অন্দরের কোন কথা করলেন ফাঁস?

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের রাজনীতি নতুন কিছু নয়। পর্দার সামনে ঝলমলে আলো থাকলেও, পর্দার আড়ালে ক্ষমতার টানাপোড়েন, সংগঠন বনাম শিল্পীর দ্বন্দ্ব এবং ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধ প্রায়ই বড় আকার নিয়েছে। বহু সময়েই দেখা গিয়েছে, মতের অমিলের জেরে শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সৃজনশীল জগতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা ঠিক কতটা?

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য-এর নাম। গত কয়েক মাস ধরে তাঁর হাতে তেমন কাজ নেই বলে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে জোর চর্চা। শোনা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ফেডারেশনের সঙ্গে পরিচালকদের যে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়, সেই ঘটনার পর থেকেই নাকি অনির্বাণ কার্যত ‘নিষিদ্ধ’ অবস্থায়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা নেই, তবু কাজ না পাওয়ার ঘটনাই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অভিনেতা-নাট্যকার চন্দন সেন সরাসরি মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “যা হচ্ছে তা অত্যন্ত অন্যায়।” তিনি জানান, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনিও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাই পরিস্থিতির যন্ত্রণা তিনি বোঝেন। অনির্বাণের হয়ে যাঁরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছেন, তাঁদের ভূমিকাও তিনি প্রশ্নের মুখে তুলেছেন। চন্দনের মতে, এতে অনির্বাণের সম্মান বাড়ছে না। কারণ অনির্বাণ নিজে কখনও বলেননি যে তিনি ভুল করেছেন।

চন্দন আরও বলেন, যে সময় অনির্বাণ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন অনেকেই তাঁর পাশে ছিলেন। আজ তাঁরা যদি পিছিয়ে যান, তবে সেটা শিল্পীর একার দায় হতে পারে না। তাঁর কথায়, “ও তো একা ছিল না। সকলে মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আজও ও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে।” অর্থাৎ, নিজের অবস্থান থেকে সরে না আসাই অনির্বাণের শক্তি—এটাই মনে করেন চন্দন।

আরও পড়ুনঃ ৮৯-এও ক্লান্তিহীন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! চারতলা বাড়িতে লিফট থাকতেও, এখনও ব্যবহার করেন সিঁড়ি! শুটিং ফ্লোর থেকে রান্নাঘর, সবখানেই সমান নজর! জন্মদিনে কী চান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী? বিশেষ দিনের উদযাপন নিয়ে খুঁটিনাটি জানালেন নাতনি পিঙ্কি?

তবে সাময়িক বাধা চিরস্থায়ী হয় না বলেই বিশ্বাস তাঁর। অভিনেতার কথায়, “ওর মতো অভিনেতাদের চিরকাল থামিয়ে রাখা যায় না।” বরং এই সময়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অনির্বাণকে আরও তীক্ষ্ণ, আরও পরিণত করে তুলবে। এখন দেখার, টলিউডের এই অন্দর রাজনীতির জট কবে কাটে, আর অনির্বাণ কবে ফের বড় পর্দায় নিজের জায়গা ফিরে পান।

You cannot copy content of this page