৮৯-এও ক্লান্তিহীন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! চারতলা বাড়িতে লিফট থাকতেও, এখনও ব্যবহার করেন সিঁড়ি! শুটিং ফ্লোর থেকে রান্নাঘর, সবখানেই সমান নজর! জন্মদিনে কী চান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী? বিশেষ দিনের উদযাপন নিয়ে খুঁটিনাটি জানালেন নাতনি পিঙ্কি?

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়’ (Sabitri Chatterjee) নামটি যেন এক আলাদা মর্যাদা বহন করে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে নিজের জায়গা তৈরি করে চলেছেন তিনি। সাদামাটা উপস্থিতি, সংযত সংলাপ বলার ভঙ্গি আর চরিত্রকে নিঃশব্দে জীবন্ত করে তোলার দক্ষতা তাঁকে করে তুলেছে অনন্য। নায়িকা থেকে চরিত্রাভিনেত্রী, সব ভূমিকাতেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। আজ তাঁর জন্মদিনে আলোচনার কেন্দ্রে অবশ্য তাঁর অভিনয় নয়, বরং তাঁর মধ্যে থাকা সেই ঘরোয়া মানুষটা।

এদিন, অভিনেত্রীর নাতনি পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, বাড়ির ভেতরের মানুষটিকে দেখলে কখনও বোঝাই যেত না তিনি কত বড় মাপের শিল্পী। ছোটবেলায় তিনি নাকি বুঝতেই পারেননি, তাঁর ‘মামণি’ এত বিখ্যাত একজন অভিনেত্রী! বাড়িতে তিনি ছিলেন একেবারে সাধারণ ঠাকুরমা। কখনও আদর করতেন, আবার প্রয়োজনে শাসনও করতেন। সেই সম্পর্কের ভেতরেই বড় হওয়া। অভিনয়জীবনের সাফল্য যেন কখনও বাড়ির দরজা পেরিয়ে ঢোকেনি। বাইরের জগতের কাছে তিনি যেমনি হন, বাড়িতে এক্কেবারে সাধারণ।

জন্মদিন মানেই অনেকের কাছে বড় আয়োজন, কিন্তু এখানে ছবিটা আলাদা। ভাত, মাছের ঝোল আর কাছের মানুষরা সঙ্গে থাকলেই নাকি অভিনেত্রী সব থেকে খুশী হয়। ছোট মাছ তাঁর বিশেষ পছন্দ, সঙ্গে মাছের মাথা দিয়ে ডাল হলেই নাকি দিনটা সম্পূর্ণ হয়। খুব বেশি খাওয়াদাওয়া বা বাড়তি আয়োজন তিনি পছন্দ করেন না। সন্ধ্যেবেলায় কিছু আত্মীয়-পরিজন হয়তো আসবেন, কিন্তু সেটুকুই। আড়ম্বর বা বড়সড় উদযাপনের প্রতি তাঁর কোনও টান নেই। উপহারের ব্যাপারেও তাঁর রুচি আলাদা। দামি কিছু নয়, বরং প্রয়োজনীয় জিনিসেই তিনি খুশি।

সর্ষের তেলের প্যাকেট বা বাসন মাজার সাবান, এমন জিনিসই নাকি সুন্দর করে সাজিয়ে আজীবন ধরে উপহার দেন নাতনি পিঙ্কি! শুনলে অবাক লাগতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে ব্যবহারিক জিনিসের মূল্যই বেশি। চারতলা বাড়িতে লিফট বসে গেলেও তিনি এখনও সিঁড়ি ভরসা করেন। আবার রান্নাঘরেও নাকি অভিনেত্রীর সমান নজর। ডিমের ঝোলের জন্য সিদ্ধ ডিমের খোসা নিজে ছাড়াতে চান, কারণ অন্যরা নাকি ঠিকঠাক পারে না। এই নিয়মিত চলাফেরা আর স্বনির্ভরতা দেখেই নাতনির শেখা, বয়স মানেই থেমে যাওয়া নয়।

আরও পড়ুনঃ বনগাঁ বিতর্কে নতুন মোড়! আইনি নোটিসের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই থানায় তনয় শাস্ত্রী! ‘হেনস্থা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’, মিমির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের!

উল্লেখ্য, পরিবারের ছোট্ট সদস্য তথা পিঙ্কির ছেলে ওশ-ও তাঁকে ‘মামণি’ বলেই ডাকে। জন্মদিনের দিন স্কুলে যেতে না চাওয়া থেকে শুরু করে একসঙ্গে লুডো বা কাটাকুটি খেলা, সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক একেবারে বন্ধুর মতো। এই খুঁটিনাটি যত্ন, শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও বাড়ির দিকে নজর রাখা, এসবই পরিবারের কাছে বড় প্রাপ্তি। জন্মদিনে তাই বাড়তি কোনও চাওয়া নেই, শুধু সুস্থ থাকুন তিনি, এই কামনাই সবচেয়ে বড় তাঁর নাতনির কাছে। আমাদের তরফ থেকেও অভিনেত্রীর জন্য রইল শুভকামনা, সুস্থ থাকুন আর এভাবেই আমাদের ভালো ভালো চরিত্র উপহার দিতে থাকুন।

You cannot copy content of this page