“হিন্দু আর হিন্দুত্ববাদী এক নয়, সবকটা মূর্খ আর গুণ্ডা…হিন্দুত্ব সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে!” ‘বাংলা ভাষা’ বিতর্কে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিস্ফোরক সুর কবীর সুমনের!

ফেব্রুয়ারি মাসের এই দিনটি এলেই ভাষার স্মৃতি আর আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভোরের আলো ফুটতেই দুই বাংলার নানা প্রান্তে শুরু হয় নানান আয়োজন। ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ (International Mother Language Day) এখন শুধু ইতিহাসের স্মরণ নয়, বর্তমানের বাস্তবতাকেও ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়! আজকের দিনেই ঢাকার রাজপথে ভাষার অধিকারের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সাত দশকেরও বেশি আগে, তার স্মৃতি আজও আবেগ জাগায়।

কিন্তু উদযাপনের আবহের মাঝেই বেশ কিছু সময় ধরে বাংলা ভাষাকে ঘিরে অন্য এক বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র শাসিত রাজ্যে কর্মসূত্রে থাকা বাঙালিদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন, বাংলা বলার কারণেই তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে! কোথাও তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার হেন’স্থার অভিযোগ উঠছে। মারধর, ভয় দেখানো, এমনকি পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার কথাও শোনা গিয়েছে! কয়েক মাস আগে দিল্লি পুলিশের একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে উল্লেখ করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সেটিও এই আলোচনাকে আরও উস্কে দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই আজকের দিনে শিল্পী ‘কবীর সুমন’কে (Kabir Suman) জানতে চাওয়া হয়, বাংলা ভাষা তবে কার? তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ। তিনি মনে করেন, বাংলা ভাষাকে কেবল একটি দেশের গণ্ডিতে বেঁধে ফেলা ইতিহাস ও বাস্তবতার পরিপন্থী। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য মূলত ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ’, যা ভাষার বহুত্ববাদী চরিত্রকে সংকুচিত করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্পষ্ট করে দেন যে হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদী এক নয়!

ধর্মবিশ্বাস আর রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। এদিন শিল্পীর বক্তব্যে ছিল আক্ষেপও। স্বাধীনতার এত বছর পর হঠাৎ করে ভাষাকে এইভাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা কেন দেখা দিচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, ভাষা কোনও আগ্রাসনের হাতিয়ার নয়, বরং সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতার ভান্ডার। তিনি বাংলা ভাষার অপমানকারীদের ‘হিন্দুত্ব সাম্রাজ্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে ‘মূর্খ গু’ণ্ডা’ বলেন! যে কেউ যেখানেই থাকুক, সেটা কলকাতা হোক লন্ডন বা জার্মানি।

আরও পড়ুনঃ “মাঝরাতে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাথরুমে লুকিয়ে ছিলেন উত্তম কুমার!” কেন এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে মহানায়ক আশ্রয় নিয়েছিলেন এমন জায়গায়? বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর ৮৯তম জন্মদিনে, জীবনের কোন অজানা অধ্যায় এল সামনে?

বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার তার আছে! ভাষাকে সন্দেহের চোখে দেখা মানে সেই সংস্কৃতিকেই অস্বীকার করা। তবে শুধুই ক্ষোভে থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর বক্তব্যে ছিল আহ্বানও। বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাকে চর্চা করতে হবে, ঠিকভাবে বলতে এবং লিখতে হবে। প্রতিবাদের পথ হিসেবে তিনি ভাষার চর্চাকেই সামনে আনেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিশ্বাস, বাংলা ভাষার শক্তি তার বৈচিত্র্য এবং ইতিহাসে। সেটিকে কোনও তকমা দিয়ে ছোট করা যায় না! ভাষার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব তাই ভাষাভাষীদেরই।

You cannot copy content of this page