বিনোদন জগতের তারকারা শুধু বড় পর্দায় অভিনয় করেই থেমে থাকেন না, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, অভিজ্ঞতা আর বক্তব্যও সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প যেমন অনুপ্রেরণা দেয়, তেমনই তাঁর শৈশব, সংগ্রাম বা বেড়ে ওঠার কাহিনি অনেক সময় মানুষের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। তাই প্রিয় তারকার মুখে নিজের জীবনের কথা শুনতে সবসময়ই আগ্রহী থাকেন দর্শকরা।
অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকও তার ব্যতিক্রম নন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে নানা কটাক্ষের মুখে পড়েন। সম্পর্ক, মন্তব্য কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান—সব কিছু নিয়েই তাঁকে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে একাধিকবার। তবে সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেও কীভাবে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয়, কীভাবে আত্মবিশ্বাস হারানো যায় না—তার বাস্তব উদাহরণ যেন তিনি নিজেই। বহু বিতর্কের পরেও নিজের কাজ আর জীবনের প্রতি তাঁর একাগ্রতা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাঞ্চন মল্লিক বললেন, তাঁর বড় হওয়াটা যেন “একটা ছোট ভারত”-এর মধ্যে। পাশের বাড়িতে থাকতেন উত্তরপ্রদেশের গাঙ্গুরাম চরেসিয়া, যিনি আনন্দবাজার পড়তেন আর হিসেব রাখতেন বাংলায়। পুরো পালবাবুদের বাড়িতে ছিলেন প্রায় সবাই গুজরাটি। পেছনে বাঙালি পরিবার, ওপরের তলায় মারোয়ারি, আবার আশপাশে পাঞ্জাবি, তামিল—সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যে ভরা ছিল তাঁর পাড়া।
এই বহু সংস্কৃতির পরিবেশই নাকি তাঁর মানসিকতাকে বড় করে দিয়েছে। দোল উৎসব তাঁদের পাড়ায় চলত দু’দিন ধরে—রঙ, হাসি, উচ্ছ্বাসে ভরা এক আলাদাই আনন্দ। জামাকাপড় ছিঁড়ে যাওয়া, মেতে ওঠা—সবই ছিল উৎসবের অংশ। পাশাপাশি পাড়ার বড় দাদাদের ডিভিশন ক্রিকেট খেলা দেখে বড় হওয়া, নিজেও ক্রিকেটে মেতে ওঠা—এসব স্মৃতিই আজও তাঁর মনে অমলিন
আরও পড়ুনঃ “হিন্দু আর হিন্দুত্ববাদী এক নয়, সবকটা মূর্খ আর গুণ্ডা…হিন্দুত্ব সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে!” ‘বাংলা ভাষা’ বিতর্কে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিস্ফোরক সুর কবীর সুমনের!
সবশেষে তিনি মজা করে বলেন, তাঁর চেহারার সঙ্গে যেসব জিনিস মানায় না, তিনি নাকি সেগুলোই বেশি করে চেষ্টা করেন। ছোটবেলার সেই বৈচিত্র্যময় পরিবেশই তাঁকে শিখিয়েছে—নিজের গণ্ডি ভেঙে নতুন কিছু করতে সাহসী হতে। আর সেই সাহসই হয়তো আজকের কাঞ্চন মল্লিককে গড়ে তুলেছে।






