ক্যালেন্ডারের পাতা বদলায়, ঋতুর পালাবদল হয়, কিন্তু কিছু শূন্যতা সময়েও ভরে না। গায়িকা ইমন চক্রবর্তী এর জীবনেও আজ তেমনই এক দিন। বারো বছর আগে এই দিনেই হারিয়েছিলেন মাকে। দেখতে দেখতে এক যুগ কেটে গেলেও সেই ক্ষত এখনও তাজা। সাফল্য, নাম, যশে আজ চারপাশ আলোকিত হলেও মন পড়ে আছে অতীতের এক গোধূলি বেলায়। মা হারানোর সেই মুহূর্তই যেন তাঁকে হঠাৎ বড় করে দিয়েছিল, বদলে দিয়েছিল জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গি।
সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন চিঠিতে ইমন লিখেছেন, বারো বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শিখলাম, বড় হলাম, কিন্তু আসলে বড় হয়ে গেছি সেদিনই। মা পাশে না থাকলে জীবন যে কত কঠিন হয়ে ওঠে, তা অনুভব করেছেন প্রতিটি দিনে। তাঁর কথায় স্পষ্ট, মায়ের অভাব কখনও পূরণ হয় না। প্রতিটি সাফল্যের মুহূর্তে, প্রতিটি নতুন পদক্ষেপে তিনি খুঁজেছেন সেই স্নেহময় আশ্রয়। সময় এগিয়েছে, কিন্তু শূন্যতা থেকে গেছে অমলিন।
ইমনের সংগীতযাত্রার শুরুই মায়ের হাত ধরে। রবির গান শেখা, মঞ্চে ওঠার সাহস পাওয়া, সবকিছুর পেছনে ছিলেন তাঁর মা। জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চেও তিনি অনুভব করেছেন সেই অভাব। এবারের পোস্টে যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে সমস্ত অনুভূতি। তিনি লিখেছেন, জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে, তুমি ফিরে এসো মা। এই আর্তি শুধু এক গায়িকার নয়, এক সন্তানের অন্তরের আর্তনাদ, যা ছুঁয়ে গেছে অনুরাগীদের হৃদয়ও।
ইমনের এই পোস্টে আবেগাপ্লুত হয়েছেন সহকর্মী ও ভক্তরা। অনেকেই মন্তব্যে জানিয়েছেন, মা কখনও ছেড়ে যান না, আশীর্বাদ হয়ে সবসময় সন্তানের পাশে থাকেন। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সহ টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ইমনের শক্তির উৎসই তাঁর মায়ের আশীর্বাদ। এমন দিনে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন সকলেই।
আরও পড়ুনঃ “অভিনয় শুরু করতেই মেকআপ রুম থেকে বের করে দিয়েছিল…বাড়ি, গাড়ি আর হলো না” অতীতের সেই অপমান নিয়ে মুখ খুললেন অর্পিতা মুখার্জী! পর্দার আড়ালের কোন অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী? কারা করেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে এমন ব্যাবহার?
ব্যক্তিগত শূন্যতার মাঝেও কাজ থেমে নেই। খুব শিগগিরই নতুন অবতারে দেখা যাবে ইমনকে। সুমন ঘোষ এর প্রযোজনায় তৈরি হতে চলা ফ্যামিলিওয়ালা ছবিতে একটি গানে নাচতে দেখা যাবে তাঁকে। ঠাকুরজামাই গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এবং সংগীতায়োজনে রয়েছেন প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়। দুঃখের ভাঁজ পেরিয়ে জীবন এগিয়ে চলে, কিন্তু মায়ের স্মৃতি চিরকালই থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে।






