“মানুষকে কালচারেলি হচপচ করে দেওয়া হচ্ছে!” বাঙালি হয়েও ভোজপুরি গানের দাবি, অশ্লী’ল লিরিক্স দেখে প্রশ্ন তুললেন পাপিয়া অধিকারী! ট্রেন্ডের চাপে কি বাংলা সংস্কৃতি নিজস্বতা হারাচ্ছে? কি জানালেন অভিনেত্রী?

বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক চর্চার ধরণ বদলে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। মঞ্চের অনুষ্ঠান হোক বা পাড়ার ফাংশন—সবখানেই এখন আঞ্চলিকতার সীমা ভেঙে অন্য ভাষার গান, অন্য ধারার বিনোদন ঢুকে পড়ছে। কেউ বলছেন এটাই গ্লোবালাইজেশনের ফল, আবার কেউ মনে করছেন এর ফলে ধীরে ধীরে নিজস্ব সংস্কৃতির স্বাদ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই সরব হলেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমা, যাত্রা ও টেলিভিশনে কাজ করা এই অভিনেত্রী বরাবরই নিজের মত স্পষ্ট ভাষায় বলতে পছন্দ করেন। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি তিনি ভোজপুরি ছবিতেও অভিনয় করেছেন এবং সেখানেও একাধিক হিট সিনেমার অংশ ছিলেন। ফলে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখন অনেক অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেন দর্শকরাই ভোজপুরি গান শোনার দাবি তুলছেন। তাঁর কথায়, “দর্শক নিজে বাঙালি হয়েও চাইছে যেন ভোজপুরি গান গাওয়া হয়।” একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও শেয়ার করেন তিনি। এক অনুষ্ঠানে এক তরুণী তাঁর কাছে এসে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তার সঙ্গে একটি ভোজপুরি গান গায়। এমনকি মোবাইল ফোনে সেই গানের লিরিক্সও দেখান।

কিন্তু সেই লিরিক্স দেখেই চমকে যান অভিনেত্রী। তিনি জানান, ভাষা ও শব্দচয়ন দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তখনই তিনি মেয়েটিকে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি এই গানের মানে আদৌ জানো?” তাঁর বক্তব্য, গান গাওয়ার আগে তার অর্থ বোঝা জরুরি। শুধুমাত্র ট্রেন্ড বা জনপ্রিয়তার কারণে কিছু গাওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘খাঁটি বঙ্গসন্তান…ডায়নামিক নেতা!’ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ‌ই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আপ্লুত পোস্ট গায়ক অনীকের! ‘পরের বঙ্গবিভূষণ পাকা’, ‘হাতে কাজ নেই, তাই চটি চাঁ’টা শুরু!’ গায়ককে খোঁচা নেটপাড়ার!

সেখান থেকেই তিনি বড় মন্তব্য করেন—“মানুষকে কালচারেলি হচপচ করে দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর মতে, এক সংস্কৃতিকে অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া ঠিক নয় যাতে নিজস্ব পরিচয়ই হারিয়ে যায়। তিনি স্পষ্ট বলেন, এভাবে একটি কালচারকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেওয়া যায় না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—আধুনিকতার নামে আমরা কি নিজের শিকড় ভুলে যাচ্ছি?

You cannot copy content of this page