“নতুন শাড়ি পরে রিসেপশনে দাঁড়িয়ে…বাবাকে শেষবার দেখাও হয়নি” বিদেশে রিসেপশনের দিনেই বাবার মৃ’ত্যু, সেই রাতই বদলে দিয়েছিল সোহিনী বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন? সাফল্যের শিখরে থেকেও কেন সরে গেলেন ‘উড়ন তুবড়ি’-র তুবড়ি?

ছোট পর্দার ধারাবাহিক ‘উড়ন তুবড়ি’-তে ‘তুবড়ি’ চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন সোহিনী বন্দ্যোপাধ্যায়। সরল, মিষ্টি অথচ দৃঢ় মানসিকতার সেই চরিত্র দর্শকদের মন জিতে নেয় খুব অল্প সময়েই। অনেকেই মনে করেন, এই ধারাবাহিকই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একের পর এক অফার আসতে শুরু করে, ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয় শক্ত অবস্থান। কিন্তু ঠিক তখনই জীবনের এক অন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিনয় থেকে বিরতি নেন সোহিনী।

অভিনেত্রীর কথায়, ছোটবেলায় দেওয়া এক প্রতিশ্রুতি তিনি ভোলেননি। দীর্ঘ ১৩ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন এবং বিয়ের সিদ্ধান্তটা ছিল সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেতে নেওয়া। ইন্ডাস্ট্রিতে যখন সাফল্যের মুখ দেখছেন, তখনই সংসার গুছিয়ে নেওয়ার জন্য বিদেশে পাড়ি দেন অভিনেত্রী। অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু সোহিনী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি ছিল শুধুই একটি বিরতি অভিনয় জীবন থেকে চূড়ান্ত বিদায় নয়।

বিদেশে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হয় তাঁকে। পরিচিত আলো-ঝলমলে সেট থেকে দূরে, নিজের হাতে সংসারের সব কাজ সামলানো—বাসন মাজা থেকে রান্না, সবকিছুই করেছেন হাসিমুখে। তিনি বলেন, “সংসারের কনসেপ্টটা ওখানে আলাদা, সব নিজে হাতে করতে হয়েছে, কিন্তু কোনও অসুবিধা হয়নি।” সেই সময়টা তাঁকে আরও পরিণত করেছে, আরও শক্ত করেছে বলেই মত তাঁর।

তবে বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন তিনি। বিয়ের পরপরই তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন, যদিও প্রথমদিকে বিষয়টি এতটা গুরুতর মনে হয়নি। হঠাৎ একদিন ভোরে একটি দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায় সোহিনীর—স্বপ্নে দেখেন তাঁর বাবা আর নেই। সেই স্বপ্ন তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। পরদিন রাতে বাড়িতে ফোন করে প্রথমে কাউকে না পেয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর খবর পান, বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঠিক সেই সময় বিদেশে তাঁর রিসেপশনের প্রস্তুতি চলছিল। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও পরিস্থিতির চাপে অনুষ্ঠান স্থগিত করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, যদি বুঝতে পারতেন বাবার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, তাহলে সবকিছু ছেড়ে দেশে ফিরে আসতেন। কিন্তু রিসেপশন চলাকালীনই তাঁর বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নতুন শাড়ি পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও, অন্তরে চলছিল গভীর যন্ত্রণা। সেই অসহায় মুহূর্ত আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি।

আরও পড়ুনঃ “নিজের নামের সঙ্গে পদবি রাখিনি, মেয়ের নামের পাশেও চাই না!” সিঙ্গল পেরেন্টদের কষ্টটা কেউ বোঝে না? দায়িত্ব নেন না প্রাক্তন স্বামী, দাবি অভিনেত্রী স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়ের! সমাধানে ফিরহাদ হাকিমের দ্বারস্থ হলেন তিনি!

বাবার চলে যাওয়ার সেই গভীর শোক আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হলেও, সোহিনী ভেঙে পড়েননি। তিনি জানিয়েছেন, শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপ সারাজীবন থেকে যাবে, কারণ বাবা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ও সাহসের জায়গা। সেই অসহায় অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে, মানুষ চিনতে শিখিয়েছে এবং মানসিকভাবে আরও শক্ত করেছে। এখন তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়েছেন, অতীতের কষ্টকে সঙ্গে নিয়েই এগোচ্ছেন সামনে। সংসার গুছিয়ে, পরিবারকে সময় দিয়ে আবারও কাজে ফেরার জন্য প্রস্তুত তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিনয় তিনি ছাড়েননি—এটা শুধুই বিরতি ছিল। এখন ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন, নিজের সময় নিয়ে, কোনও তাড়াহুড়ো নয়, নতুন করে শুরু করার আত্মবিশ্বাস নিয়েই।

You cannot copy content of this page