বিনোদন জগতের আলো ঝলমলে পর্দার সামনে যাদের আমরা দেখি, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক না বলা গল্প। সাফল্য, জনপ্রিয়তা আর করতালির মাঝেও অভিনেতাদের জীবনে থাকে সংগ্রাম, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনের নানা কঠিন শিক্ষা। বাইরে থেকে সবকিছু যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই জটিল হয়ে ওঠে সংসার, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির জগৎ।
সম্প্রতি এমনই কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন টলিউড অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়(Samrat Mukherji)। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পাশাপাশি নিজের সংসার এবং পারিবারিক অভিজ্ঞতার নানা দিক তিনি তুলে ধরেছেন। অভিনেতার কথায়, জীবনের অনেক শিক্ষা তিনি পেয়েছেন নিজের পরিবার থেকেই, বিশেষ করে বাবা-মায়ের সম্পর্ক দেখেই তিনি সংসার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপলব্ধি করেছেন।
অভিনেতা জানান, ছোটবেলায় তিনি অনেক সময়ই মায়ের উপর রাগ করতেন। তাঁর মনে হতো, মা যেন সব সময় বাবাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখেন। সেই সময় বাবাকে তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করতেন কেন তিনি কিছু বলেন না। কিন্তু বাবার উত্তর ছিল খুব সহজ—সংসার চালানো খুব কঠিন বিষয়, অনেক সময় কিছু কথা না বলাই সংসারের শান্তি বজায় রাখে।
সম্রাট মুখোপাধ্যায় জানান, তখন তিনি বাবার সেই কথার গভীরতা বুঝতে পারেননি। তাঁর নিজের ব্যক্তিত্ব তখন বলত, অন্যায় মনে হলে তা সরাসরি বলে দিতে হবে। কিন্তু বাবার মতে, সংসার টিকিয়ে রাখতে গেলে অনেক সময় নিজের ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখাও জরুরি। আজ প্রায় চব্বিশ বছরের বিবাহিত জীবনে এসে অভিনেতা বুঝতে পারছেন, বাবা ভীতু ছিলেন না—বরং সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য ধৈর্য এবং সংযমই সবচেয়ে বড় শক্তি।
সম্রাট মুখোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল বা ঝগড়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তবে তিনি মনে করেন, এমন সময় একটু থেমে নিজেকে একটা সহজ প্রশ্ন করা দরকার—“তাকে ছাড়া কি আমি থাকতে পারব?” অভিনেতার মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রশ্নের উত্তর আসে “না”। আর ঠিক সেখান থেকেই মানুষ বুঝতে পারে সম্পর্কের আসল মূল্য। তাই রাগের মাথায় সব কথা বলে ফেলার বদলে অনেক সময় ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলানোই ভালো। সম্রাটের স্ত্রীও মজার ছলে বলেছেন, মুখে মুখে তাঁদের অনেকবারই ডিভোর্স হয়ে গেছে, কিন্তু পরের দিন সকালে আবার দু’জনেই একসঙ্গেই থেকেছেন। অভিনেতার কথায়, সংসার টিকিয়ে রাখতে গেলে ভালোবাসার পাশাপাশি ধৈর্য আর বোঝাপড়াটাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভরসা।






