টলিউডের (Tollywood) দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ‘অনামিকা সাহা’ (Anamika Saha)। সত্তরের দশক থেকে পর্দার সামনে কাজ করতে করতে তিনি দেখেছেন টলিউডের একাল এবং সেকালের আমূল পরিবর্তন। একসময় দাপুটে খলনায়িকার চরিত্রে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে, এখন খুব একটা পর্দায় দেখা যায় না তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই প্রকাশ্যে এসে পড়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কিছু ক্ষোভ, যার কেন্দ্রে উঠে আসে অভিনেতা দেবের (Dev) নাম!
এদিন অভিনেত্রীর কথায়, একসময় দেবের সঙ্গে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। সেই সময় দেব তাঁর সঙ্গে যথেষ্ট ভালো ব্যবহারও করেছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি নাকি অনেকটাই বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমানে দেব এতটাই ব্যস্ত এবং অন্য জগতে ডুবে গিয়েছেন যে দেখা হলেও আর আগের মতো চিনতে পারেন না! অভিনেতার রাজনীতিতে প্রবেশের পর, এই পরিবর্তনটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে বলে জানান অভিনেত্রী।
তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে পুরনো শিল্পীদের প্রতি সেই আগের সম্মান বা যোগাযোগের জায়গাটা অনেকটাই কমে গেছে। এদিন যদিও দেবের সাফল্যের প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাননি অনামিকা। তিনি স্বীকার করেছেন যে অভিনেতার ছবিগুলো শুরু থেকেই পরপর বেশ ভালো ব্যবসা করছে এবং ভাগ্যও তাঁর পক্ষে কাজ করছে। তবে, একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য যে ছবিগুলোকে অসাধারণ বলার মতো মন্তব্য তিনি খুব একটা শোনেননি। এই কথার মধ্য দিয়েই আরও যেন বর্তমান বাংলা বাণিজ্যিক ছবির মান নিয়েও একপ্রকার প্রশ্ন তুলে দেন তিনি।
অন্যদিকে, তুলনায় জিৎকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল অনেকটাই ইতিবাচক। অভিনেত্রীর মতে, জিৎ স্বভাবে অনেক শান্ত এবং নিজের মতো করে কাজ করতে পছন্দ করেন। দীর্ঘদিন কাজ না করেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করেন, যাঁর সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের শক্তির ওপর ভরসাকেই তিনি প্রধান কারণ হিসেবে দেখেন।
আরও পড়ুনঃ মেদিনীপুর থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘ’টনা! অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন কবি শ্রীজাত! শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্য, এখন কেমন আছেন তিনি?
এদিন যদিও কথোপকথনের শেষদিকে অনামিকা স্পষ্টই জানান, এখনকার ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ছোট ছোট গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গেছে, যেখানে সিনিয়র শিল্পীদের মতামতকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাঁর মতে, যেখানে সম্মান পাওয়া যায় না, সেখানে নিজের উপস্থিতির প্রয়োজনও তিনি মনে করেন না। এই অভিজ্ঞতাগুলোই হয়তো তাঁকে আজ অনেকটাই দূরে সরিয়ে দিয়েছে টলিউডের সক্রিয় কাজের জগৎ থেকে। আপনাদের কী মতামত? জানাতে ভুলবেন না!






