“ইন্ডাস্ট্রির সাত হাজার টেকনিশিয়ানের ‘স্বাস্থ্য সাথী’র সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ” দেবের পোস্টে প্রশংসার বদলে বাড়ল অসন্তোষ! ‘আমরা কি ম’রে গেলেই এই সুবিধা পাব স্যার?’ ‘সাধারণ মানুষরা কি এক্ষেত্রেও বঞ্চিত?’ প্রশ্ন তুলছেন আবেদনকারী নেটিজেনরা!

গতকাল ইম্পা বৈঠকের পর, রাণা সরকারের দৌলতে এমনিতেই সমাজ মাধ্যমের আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেতা দেব (Dev)। আর আজ অভিনেতা ও সাংসদ, একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা। সেখানে তিনি লেখেন, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সকল টেকনিশিয়ানদের জন্য বড় একটি উদ্যোগ নেওয়া হলো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের আওতায় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সাত হাজার টেকনিশিয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই বিষয়ে একটি রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে উপস্থিত থেকে টেকনিশিয়ানরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। দেব তাঁর পোস্টে মূলত এই উদ্যোগের কথাই তুলে ধরে সকল টেকনিশিয়ানকে ওই ক্যাম্পে উপস্থিত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। আসলে, দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের পর্দার আড়ালে কাজ করা বহু মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। আলোয় থাকা তারকারা যেমন দর্শকের কাছে পরিচিত, তেমনি ক্যামেরার পিছনে থাকা টেকনিশিয়ানদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁদের জন্য যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই ইতিবাচক বার্তা। কারণ টেকনিশিয়ানদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা যত ভালো হবে, ততই শক্তিশালী হবে বাংলা সিনেমার ভিত্তি। তবে, দেবের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর সমাজ মাধ্যমে কেবল প্রশংসাই শোনা যায়নি। বরং অনেক সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন! তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা বহু আগেই ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তখন একটি যোগাযোগ নম্বরও দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের বক্তব্য।

কিন্তু এতদিন পেরিয়ে গেলেও সেই নম্বর থেকে কোনও বার্তা বা সুবিধা তারা পাননি! ফলে নতুন করে এই ঘোষণার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে আগে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের কী হল? এই প্রসঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। কেউ বলছেন, নতুন করে ক্যাম্প করা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু পুরনো আবেদনকারীদের বিষয়টি আগে পরিষ্কার করা দরকার। আবার কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষ কি এখনও একইভাবে অপেক্ষা করেই যাবে?

আরও পড়ুনঃ “অনেকের মে’রে দিয়েছি…আমি চু’রি করেছি” তিন দশকের অভিনয়জীবন পেরিয়ে বি*স্ফোরক স্বীকারোক্তি কাঞ্চন মল্লিকের! কার কাছ থেকে, কী ‘চু’রি’ করেছিলেন তিনি, যা শেষ পর্যন্ত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁকে? কোন অভিজ্ঞতা আনলেন প্রকাশ্যে?

অনেকেই মনে করছেন, প্রকল্পের সুবিধা যদি সবার জন্য হয়, তাহলে সেই সুবিধা পৌঁছনোর প্রক্রিয়াটাও যেন স্বচ্ছ ও সমানভাবে কার্যকর হয়। এর সঙ্গে আরও একটি বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। দেব শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি একই সঙ্গে শাসকদলের একজন সাংসদও। তাই অনেকেই তাঁর পোস্টের নিচে রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ আক্ষেপ করে লিখেছেন, “আমরা কি তাহলে ম’রে গেলেই এই সুবিধা পাব স্যার?” ফলে একদিকে যেমন জন্য নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও অসন্তোষও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

You cannot copy content of this page