“এই সংসারে থাকলে আমার গান শেখা হবে না” কেন নিজের বাবাকেই এমন কথা বলেছিলেন হৈমন্তী শুক্লা? ছোটবেলার কোন অন্ধকার বাস্তবতার কথা জানালেন কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী, যা একসময় তাঁর সংগীতজীবনের পথেই হয়ে উঠেছিল বড় বাধা?

বাংলা সংগীতের জগতে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের কণ্ঠ বহু দশক ধরে শ্রোতাদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সেই তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হৈমন্তী শুক্লা (Haimanti Sukla )। আধুনিক বাংলা গান থেকে শুরু করে ভজন, গজল কিংবা শাস্ত্রীয় সংগীত—সব ধারাতেই সমান স্বচ্ছন্দ এই শিল্পী। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের স্বতন্ত্র গায়কি ও আবেগঘন কণ্ঠে তিনি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

সংগীতই যেন তাঁর জীবনের প্রধান পরিচয়। ছোটবেলা থেকেই সুরের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা এই শিল্পী পরবর্তীতে কঠোর সাধনা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলা সংগীতের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হিসেবে। অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বহু সম্মাননাও পেয়েছেন। বয়স বাড়লেও এখনও তিনি গান, অনুষ্ঠান এবং নানা আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সংগীতকে ঘিরেই আজও তাঁর জীবন আবর্তিত।

শিল্পীর দীর্ঘ সংগীতজীবন নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনার মাঝেই সামনে এসেছে তাঁর ছোটবেলার কিছু স্মৃতি। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর সংগীত শেখার পরিবেশ ছিল কঠোর নিয়মের মধ্যে। তবে সেই কঠোরতার মধ্যেও ছিল বাবার গভীর স্নেহ। সংগীত শেখার সময় তাঁর বাবা নাকি একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিতেন এবং বলতেন, মোমবাতি যতক্ষণ জ্বলবে ততক্ষণ গান চালিয়ে যেতে হবে। মোমবাতি নিভে গেলে সেদিনের অনুশীলন শেষ।

সেই সময়ের একটি ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে শিল্পী বলেন, খুব ছোট বয়সে তিনি একটি ভজন শিখছিলেন। কিন্তু উচ্চারণ ঠিকমতো করতে পারছিলেন না। অনেকক্ষণ ধৈর্য ধরে বোঝানোর পর তাঁর বাবা রাগ করে তাঁর কান টেনে দেন। ছোট্ট মেয়ের কাছে সেই ঘটনা ছিল খুব অভিমানের। পরে অবশ্য বাবা নিজেই বাইরে গিয়ে রসগোল্লা এনে দেন। সেই স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, বাবার কাছে শাসন ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল ভালোবাসা।

আরও পড়ুনঃ ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে আবার বড়পর্দায় হিরো হচ্ছেন আদৃত, সঙ্গী হবেন নীল এবং জন! নায়িকার চরিত্রে বিশেষ চমক রাইমা সেন? আরডি বর্মণের অমর সুরে তৈরি হচ্ছে, কোন নতুন ছবি?

পরিবারের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও জানান, তাঁদের সংসারে অনেক ভাইবোন ছিল এবং আর্থিক টানাপোড়েনও ছিল যথেষ্ট। ছোটবেলা থেকেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, ভিড়ভাট্টা সংসারে নিয়মিত অনুশীলন করা খুব কঠিন। সেই কারণেই একসময় বাবাকে তিনি বলেছিলেন, এভাবে থাকলে তাঁর গান শেখা ঠিকমতো হবে না। তখন তাঁর বাবা শুধু একটি কথাই বলেছিলেন—জীবনে যা-ই করো, এমন কিছু করো না যাতে আমার মাথা নিচু হয়। সেই শিক্ষা আর অনুশাসনই আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন শিল্পী।

You cannot copy content of this page