সমাজিক মাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে অভিনেত্রী ‘অনন্যা গুহ’ (Ananya Guha) এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘সুকান্ত কুণ্ডু’র (Sukanta Kundu) বিয়েকে ঘিরে। চলতি সপ্তাহের সোমবারেই সব রীতি মেনে তাঁদের সামাজিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এর আগেই আইনি বিয়ে সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা। তবু পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের নিয়ে বড় করে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনাই ছিল। সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty)।
তবে বিয়ে ঘিরে যতটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই নানান গুঞ্জনও ছড়াতে শুরু করে নেটমাধ্যমে! বিয়ের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের আয়োজন, সবকিছুই নজর কেড়েছিল অনেকের। মালদার পৈতৃক বাড়ি এবং কল্যাণী, দুটো জায়গাতেই ছিল সাবেকি বাঙালি বিয়ের আবহ। আলোয় সাজানো বাড়ি, উঠোন জুড়ে আলপনা আর ঘরোয়া আয়োজনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। তবে, এর মাঝেই অন্য একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
কেউ কেউ অভিযোগ তোলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বাউন্সার রেখে অপমান করা হয়। যদিও এই সব অভিযোগ নিয়ে নবদম্পতির তরফে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া প্রথমে সামনে আসেনি। এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় ঘিরেও জল্পনা শুরু হয়। বিয়ের দিন সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি এবং ভিডিও দেখে অনেকেই নানান ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। সেখানে অনন্যার মাকে বেশ আনন্দিত মনে হলেও সুকান্তর মাকে নাকি একটু গম্ভীর দেখাচ্ছিল।
এই দৃশ্য থেকেই অনেক নেটিজেন অনুমান করতে শুরু করেন যে বোধহয় নতুন বউমাকে তিনি তেমন পছন্দ করেননি। এমনও মন্তব্য উঠে আসে যে ছেলের খুশির কথা ভেবে হয়তো তিনি মুখে কিছু বলছেন না। এইসব আলোচনা যে তাঁদের চোখ এড়ায়নি, তা বোঝা গেল বিয়ের পরের একটি ভিডিওতে। বিয়ের পরদিনই সুকান্ত ও অনন্যা মালদায় পৌঁছন এবং রিসেপশনের প্রস্তুতি শুরু হয়। গতকাল সায়কও সেখানে যান এবং একটি ভ্লগ পোস্ট করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরের খাবারের টেবিলে নবদম্পতির সঙ্গে বসে আছেন তিনি, পাশে রয়েছেন সুকান্তর মা-ও। সেখানেই মজার ছলে সায়ক প্রশ্ন করেন, “শুনলাম তোমার নাকি বৌমা পছন্দ হয়নি, তোলপাড় করে নাকি ছাদ দিয়ে ফেলে দেবে? বিয়ের দিন মুখ গুলিয়ে রেখেছিলে কেন?” উত্তরে সুকান্তর মা হাসতে হাসতেই জানান, তিনি নাকি স্বভাবতই এমন গম্ভীর থাকেন। এরপর অনন্যা এবং সুকান্তও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মত জানায়।
আরও পড়ুনঃ “এই সংসারে থাকলে আমার গান শেখা হবে না” কেন নিজের বাবাকেই এমন কথা বলেছিলেন হৈমন্তী শুক্লা? ছোটবেলার কোন অন্ধকার বাস্তবতার কথা জানালেন কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী, যা একসময় তাঁর সংগীতজীবনের পথেই হয়ে উঠেছিল বড় বাধা?
তাঁদের মতে, অনেকেই না জেনে না বুঝেই গল্প বানিয়ে ফেলছেন। এই প্রসঙ্গেই তাঁরা বলেন, “যাদের কাজ নেই, তাদের আমাদের নিয়ে বেশি চিন্তা। একটা মানুষ কেন অচেনা লোকের ক্যামেরা দেখে হাসবে? মা তো আর সব সময় ক্যামেরার সামনে থেকে না, যে অভ্যাস হয়ে যাবে!” সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, নেটমাধ্যমে যতই আলোচনা চলুক না কেন, বাস্তবে নবদম্পতি ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক একেবারেই স্বাভাবিক এবং স্বচ্ছন্দ।






