বিনোদন জগতের সত্তর আর আশির দশকের এমন অনেক শিল্পী ছিলেন, যাঁরা বড় বড় তারকার ভিড়ে খুব বেশি শিরোনামে না এলেও নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। নিয়মিত কাজের মাধ্যমে তাঁরা নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। বহু ছবিতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে এমনই এক অভিনেত্রী (70’s Actress) দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বড় চরিত্র হোক বা ছোট, পর্দায় উপস্থিত হলেই তাঁর অভিনয়ে স্বাভাবিকতা ধরা পড়ত।
যা সেই সময়ের দর্শকের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য ছিল। তাঁর অভিনীত বহু ছবির মধ্যে কয়েকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে রয়েছে। ‘সত্তে পে সত্তা’, ‘করজ’, ‘রিশতা কাগজ কা’, ‘বিশ্বনাথ’ এবং ‘কয়ামত’। এই ছবিগুলিতে তাঁর অভিনয় অনেকেই মনে রেখেছেন। ছবিতে হয়তো তিনি সব সময় প্রধান চরিত্রে ছিলেন না, কিন্তু নিজের ভূমিকাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি একশোরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন, যা নিঃসন্দেহে তাঁর পরিশ্রম আর নিষ্ঠারই প্রমাণ। তবে, অনেক দর্শকের কাছে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে একটি জনপ্রিয় গানের কারণে। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হিরো’ ছবির বিখ্যাত গান ‘লম্বি জুদাই’ সেই সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই গানের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিও মানুষের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছিল।
সময় পেরিয়ে গেলেও গানটি এখনও অনেকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর সেই পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত পেশাদার এবং নির্ভরযোগ্য একজন শিল্পী। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে তিনি নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন হিন্দি ছবির জগতে। সময়ের সঙ্গে পর্দা থেকে দূরে সরে গেলেও দর্শকের স্মৃতিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো আজও থেকে গেছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি তো বাংলার মেয়ে, মুখ্যমন্ত্রী আমার কাছে মাতৃতুল্য” পদ্ম শিবির থেকে দূরত্বের পর, শ্রাবন্তীর কথায় রাজনৈতিক মহলে দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে! ২০২৬ ভোটের ময়দানে কি তবে শাসকদলের মুখ তিনি?
হঠাৎই তাঁর প্রয়া’ণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করেছেন। অনেক অনুরাগী পুরোনো ছবির কথা মনে করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং চলচ্চিত্র জগতের বহু মানুষও শোকপ্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃ’ত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। সত্তর আর আশির দশকে হিন্দি ছবির জগতে সক্রিয়ভাবে কাজ করা সেই অভিনেত্রী আর কেউ নন বরং মধু মালহোত্রা।






