“নায়ক হওয়ার স্বপ্নও দেখিনি, চিঙ্কাই সেই জায়গায় বসিয়েছিল…আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়েছিল!” মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে চিন্ময় রায়কে স্মরণ করে আবেগে ভাসলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়! জানালেন, তাঁর জনপ্রিয়তার অন্তরালের অজানা গল্প!

প্রয়াত অভিনেতা চিন্ময় রায় (Chinmoy Roy) সবার কাছে এক কিংবদন্তি অভিনেতা হলেও শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের (Subhasish Mukherjee) কাছে তিনি ছিলেন একেবারে আপনজন, প্রিয় চিঙ্কা। স্মৃতির পাতায় আজও জ্বলজ্বল করে সেই সম্পর্কের উষ্ণতা। শুধুই সহকর্মী নয়, বরং পরিবারের মতো কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। শুভাশিস জানালেন, তাঁর স্ত্রীকেও ভীষণ স্নেহ করতেন চিন্ময়। নাটক হোক কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত, সব জায়গাতেই ছিল তাঁর আন্তরিক উপস্থিতি। এই গভীর সম্পর্কই আজও মনে করিয়ে দেয় এক অমূল্য বন্ধনের কথা।

চলচ্চিত্রজীবনের শুরুতে শুভাশিস কখনও ভাবেননি যে তিনি নায়ক হিসেবে বড়পর্দায় সুযোগ পাবেন। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন চিঙ্কাই। ‘টেনিদা’ চরিত্রের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাঁকে বেছে নেওয়া ছিল এক বিরাট আস্থা ও ভালোবাসার প্রকাশ। যে চরিত্রে চিন্ময় নিজেই ছিলেন আইকনিক, সেই জায়গায় অন্য কাউকে ভাবা কঠিন ছিল। তবুও শুভাশিসকে সুযোগ দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন নিজের উদারতা ও দূরদৃষ্টি।

তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল অসংখ্য। সেই সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রে কৌতুকাভিনেতাদের মুখ্য চরিত্রে দেখানোর প্রবণতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ের মতো ধারাটি আর ততটা শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু চিন্ময় রায় সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। শুভাশিসের কথায়, তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এই সুযোগ, যা শুধুমাত্র চিঙ্কার জন্যই সম্ভব হয়েছিল।

একটি শুটিংয়ের মজার স্মৃতিও ভাগ করে নেন শুভাশিস। একটি দৃশ্যে কন্টিনিউইটির সমস্যা তৈরি হয়েছিল, কারণ প্রয়োজনীয় শার্টটি সেটে আনা হয়নি। সমাধান হিসেবে ঠিক হয়, চিন্ময় গাড়িতে বসে থাকবেন আর শুভাশিস সংলাপ বলবেন। কিন্তু শট চলাকালীন হঠাৎ দেখা যায় চিন্ময় জামা খুলে খালি গায়ে সংলাপ বলতে শুরু করেছেন। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পুরো সেট হেসে উঠেছিল, আর সেই মুহূর্ত আজও অমলিন হয়ে আছে স্মৃতিতে।

আরও পড়ুনঃ “গরিব মানুষদের হারানোর মতো কিছু থাকে না…সামাজিক নৈতিকতার বোধও তৈরি হয় না!” মধ্যবিত্তের ‘মোরালিটি’ নিয়ে মন্তব্য অপর্ণা সেনের! সমাজের শ্রেণি ও নৈতিকতা নিয়ে কি নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন অভিনেত্রী?

আজ চিন্ময় রায়ের অনুপস্থিতি গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে শুভাশিসের জীবনে। প্রতিটি মুহূর্তে তিনি অনুভব করেন সেই অভাব। ‘টেনিদা’ চরিত্র থেকে শুরু করে একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি, সবই আজ তাঁর কাছে অমূল্য সম্পদ। শেষ পর্যন্ত একটাই প্রার্থনা, যেখানেই থাকুন চিঙ্কা, যেন ভালো থাকেন। এই শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাই প্রমাণ করে, একজন শিল্পী শুধু কাজের জন্য নয়, মানুষ হিসেবেও কতটা গভীর ছাপ রেখে যেতে পারেন।

You cannot copy content of this page