পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি, অতিরিক্ত টাকার শর্ত! নির্মাতা থেকে সহ অভিনেতাদের সঙ্গে অশা’লীন আচরণ, জিতু কমল বাদ পড়লেন ‘এরাও মানুষ’ থেকে! ‘চিরদিনই’ বিতর্কের পর আবার অভিযোগের ঝড়, ঠিক কী ঘটেছে?

টলিপাড়ায় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেতা ‘জিতু কমল’ (Jeetu Kamal) । নতুন ছবি ‘এরাও মানুষ দ্য সার্চ উইদিন’-এর শুটিং চলাকালীন একাধিক সমস্যার জেরে শেষমেশ তাঁকে ছবিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতারা! কিন্তু কেন? যদিও এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্বস্তি ও অভিযোগের ফলেই পরিস্থিতি এই জায়গায় এসে পৌঁছয়। পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই নানান কারণে জিতুকে নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল, যা ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠছিল। পরে সহ অভিনেত্রীরাও অভিযোগ জানাতে শুরু করেন, যা সামগ্রিক কাজের পরিবেশে প্রভাব ফেলছিল। শুটিংয়ের একেবারে শেষের দিকে এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়। তখন ছবির কাজ প্রায় শেষের পথে, মাত্র দু’দিনের শুটিং বাকি। এই সময় জিতু প্রযোজনা সংস্থাকে জানিয়েছিলেন, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করতে পারবেন না। কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানান, যা ইউনিটের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তিনি অতিরিক্ত কাজের জন্য বাড়তি পারিশ্রমিকের দাবি তোলেন।

নির্মাতাদের মতে, এত অল্প সময়ের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া সম্ভব ছিল না, ফলে সেই দিনের কাজ কার্যত থমকে যায় এবং শিডিউল বিঘ্নিত হয়। এর মধ্যেই অন্য একটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শেষ দিনের শুটিংয়ে এসে জিতু নাকি মেকআপ করতেও অনীহা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি ছিল, সহ অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় সেটে না এলে তিনি প্রস্তুত হবেন না। কিন্তু ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুটিংয়ের সুবিধার জন্য তাঁকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

তখন ইউনিটে মাত্র একজন মেকআপ আর্টিস্ট থাকায় সময় নষ্ট না করার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবুও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে দেরি করতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে পুরো ইউনিটের কাজ ব্যাহত হয় এবং চাপ বাড়তে থাকে সবার উপরেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য তাঁর ভ্যানে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। সেখানে এক সহকারী পরিচালক তাঁকে কাজ শুরু করার অনুরোধ করলে, অভিযোগ অনুযায়ী জিতু এমন এক মন্তব্য করেন যা উপস্থিতদের বিস্মিত করে।

বলা হয়, তিনি নাকি আগে তাঁর পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেন, তাও আবার এক অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে! এই ঘটনার পরেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই সেট ছেড়ে চলে যান বলে জানানো হয়েছে। এরপর আর দেরি না করে নির্মাতারা তাঁকে ছবিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং চুক্তিও বাতিল করা হয়। এই ঘটনার আর্থিক দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই জিতুকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু অর্থ বাকি ছিল ডাবিংয়ের জন্য।

আরও পড়ুনঃ “নায়ক হওয়ার স্বপ্নও দেখিনি, চিঙ্কাই সেই জায়গায় বসিয়েছিল…আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়েছিল!” মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে চিন্ময় রায়কে স্মরণ করে আবেগে ভাসলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়! জানালেন, তাঁর জনপ্রিয়তার অন্তরালের অজানা গল্প!

চুক্তি বাতিল হওয়ায় সেই অর্থের বিষয়টিও নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছবির প্রচারের জন্য নির্ধারিত তারিখ এবং সামাজিক মাধ্যম সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ছবির নায়িকা শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং ইউনিটের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুরো ঘটনায় টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন অভিনেতার পেশাদারিত্ব, সময় মেনে কাজ করা এবং সেটে আচরণ কেমন হওয়া উচিত, এই বিষয়কে ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে।

You cannot copy content of this page