শিক্ষা শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্কুল, বই আর পরীক্ষার ছবি। কিন্তু আসল শিক্ষা কি শুধুই এই গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে? অনেক সময় দেখা যায়, জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমরা পাই পরিবার থেকেই। ছোটবেলার পরিবেশ, অভিভাবকদের কাছ থেকে শেখা মূল্যবোধ—এসবই মানুষ গড়ার ভিত্তি তৈরি করে। আর সেই কারণেই আজও অনেকেই মনে করেন, প্রকৃত শিক্ষা বইয়ের পাতার বাইরে গিয়েই সম্পূর্ণ হয়।
এই শিক্ষা বিষয় নিয়েই সম্প্রতি মুখ খুললেন বরুণ চন্দ। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত এই ব্যক্তিত্ব শুধুমাত্র অভিনয়েই নয়, নিজের জীবনদর্শন দিয়েও বহু মানুষকে ভাবতে বাধ্য করেছেন। তাঁর গম্ভীর ব্যক্তিত্ব ও স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গি বরাবরই দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে এবার তিনি যে অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন, তা তাঁর জীবনের এক অন্য অধ্যায়কে সামনে নিয়ে এল।
১৯৭১ সালে সত্যজিৎ রায়-এর ‘সীমাবদ্ধ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন বরুণ চন্দ। প্রথম ছবিতেই ‘শ্যামলেন্দু চ্যাটার্জি’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটে যায়। এরপর ‘হীরের আংটি’, ‘লাল দরজা’, ‘এলার চার অধ্যায়’, ‘এক যে ছিলো রাজা’ বা ‘কলকাতার কোহিনূর’-এর মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে। শুধু অভিনয় নয়, লেখক হিসেবেও তিনি পরিচিত, পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের জগতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে এক বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী তিনি।
তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি উঠে এসেছে শিক্ষার প্রসঙ্গে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি কখনও স্কুলে যাননি। ছোটবেলার পুরো শিক্ষাটাই তিনি পেয়েছেন তাঁর মায়ের কাছ থেকে। এমনকি স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরেও পড়াশোনার বড় অংশ তিনি বাড়িতেই, মায়ের তত্ত্বাবধানে চালিয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর শিক্ষার ভিত গড়ে উঠেছে একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে।
আরও পড়ুনঃ আবার ফিরছে ‘কথাগ্নি’ জুটি? ধারাবাহিক ‘গঙ্গা’র জনপ্রিয়তা বাড়াতেই, সাহেবের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে সুস্মিতার এন্ট্রি! উত্তেজনা তুঙ্গে, সামনে আসছে বড় চমক? টিআরপি বাঁচাতেই চ্যানেলের ভরসা পুরনো কেমিস্ট্রি?
এই প্রসঙ্গে তিনি একটি সহজ কিন্তু ভাবনার মতো অভিজ্ঞতার কথা শোনান। ছোটবেলায় বাড়িতে এক অতিথি এসে তাঁকে ও তাঁর দাদাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারা কোন ক্লাসে পড়ে। তখন তারা সোজাসাপ্টা বলেছিলেন—তারা কোনো স্কুলে পড়ে না, মায়ের কাছেই পড়াশোনা করে। এই উত্তর শুনে অতিথি কিছুটা অবাক হয়ে যান এবং মনে মনে ভেবেছিলেন, হয়তো তারা কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। পরে বড় হয়ে এই ঘটনাটা মনে করে নিজেরাই হেসেছেন তাঁরা। তবে এই ছোট্ট ঘটনার মধ্যেই তিনি একটা বড় কথা বোঝাতে চেয়েছেন—শুধু স্কুলে পড়লেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না, আসল শিক্ষা আসে পরিবার থেকে, বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে শেখা মূল্যবোধ আর জীবনবোধ থেকেই মানুষ সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠে।






