টলিউড ইন্ডাস্ট্রি চলার সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা মুক্তি ও প্রযোজনার পরিবেশে নানা বিতর্ক, ভুল বোঝাবুঝি আর কোলাহল নতুন নয়। বিশেষ করে বড় প্রডাকশন হাউস ও হল মালিকদের মধ্যে ছবির রিলিজ তারিখ, প্রদর্শন সংখ্যা ও প্রায়রিটি নিয়ে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বরাবরই থাকে। এই ধরনের ঘটনা কখনো কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি করে।
সাম্প্রতিক সময়ে শোনা গিয়েছিল, অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত (Bonny Sengupta) তাঁর ছবির হাউজ প্রদর্শনের জন্য হল মালিকদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর মা অভিনেত্রী তথা ইম্পা’র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত (Piya Sengupta) সম্পর্কেও মন্তব্য উঠেছিল যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। এমন গুঞ্জন ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের নেটওয়ার্ক ও ছবির প্রদর্শন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছিল, ঠিক কতটা সত্যতা রয়েছে এই দাবি গুলোর।
অভিনেত্রী পিয়া সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সকল গুঞ্জনের উত্তর দেন। পিয়ার মতে, “আমি কোনো প্রকার চাপ বা হুমকি দিয়ে ছবির প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ করি না। আমাদের স্ক্রিনিং কমিটি সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো কোন হল মালিককে বলিনি কোন ছবি আগে বা পরে চলবে।” পিয়া আরও জানান, কমিটি প্রধান অরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এক্সিবিটারদের সঙ্গে সমস্ত সমস্যার সমাধান করছেন এবং তার নেতৃত্বে কমিটি যথাযথভাবে কাজ করে।
পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন যে তাঁর নতুন ছবি ‘মামাভাগ্নে টু’ সম্পর্কিত মুক্তির তারিখ নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। “ডিসেম্বরে আমাদের রিলিজ ক্যালেন্ডার ঠিক করা হয়েছে। বনির ছবিটি প্রথমে ডিসেম্বরে থাকা উচিত ছিল, পরে জানুয়ারিতে পিছিয়ে গেছে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রভাব ফেলিনি। কমিউনিকেশন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ছিল এবং মেইল মারফত সবকিছু সমাধান করা হয়েছে।” তিনি এই বিষয়টিকে শিল্পের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “কিচ্ছু আর চাই না…শুধু গান গাইতে দিন, আমি গায়িকা!” উন্নয়নের পাঁচালী থেকে বঙ্গবিভূষণ বিতর্ক, বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের তালিকা প্রকাশ হতেই নেই নাম, সব রাজনৈতিক জল্পনায় ইতি টানলেন ইমন চক্রবর্তী!
পিয়া সেনগুপ্ত আরও বলেন, “ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কোনো দ্বন্দ্ব বা অভিমানের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমস্যা প্রকাশ করা উচিত নয়। এতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হয়। যারা ছবি প্রকাশ বা ট্রেডের বিষয়ে তথ্য চান, তারা সরাসরি হল মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সত্যি জানার জন্য এটা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।” তাঁর মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, টলিউডে স্বচ্ছতা ও সম্মান বজায় রেখে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সব পক্ষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা যায়। এভাবে পিয়া সেনগুপ্ত স্পষ্ট করেছেন যে কোনো ব্যক্তিগত চাপ বা প্রভাব ছাড়া স্ক্রিনিং কমিটির মাধ্যমে ছবির মুক্তি নির্ধারণ করা হয় এবং শিল্পের সুস্থ সংস্কৃতি বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব।






