কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসক তিলোত্তমার উপর ঘটে যাওয়া নৃ’শংস অ’ত্যাচার ও হ’ত্যার ঘটনায় একসময় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। বহু মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিলোত্তমার পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। দিনের পর দিন, রাত জেগেও আন্দোলন চালিয়ে যান সাধারণ মানুষ। এই ঘটনাটি দ্রুত রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। মানুষের ক্ষোভ, বেদনা এবং প্রতিবাদ একসঙ্গে মিলেমিশে এক বড় আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। সেই সময়ের আবেগ এখনও অনেকের মনে স্পষ্টভাবে রয়েছে।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলেন তিলোত্তমার বাবা ও মা, যাঁরা ন্যায়বিচারের দাবিতে অনড় ছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের দায়িত্ব মনে করে প্রতিবাদে অংশ নেন। বিভিন্ন স্তরের মানুষ, ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সমাজের নানা অংশের মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। আন্দোলনের সময় মানুষের দাবি ছিল স্পষ্ট, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সেই দাবির জোরেই আন্দোলন ক্রমশ আরও বড় আকার ধারণ করে। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই প্রতিবাদ একটি সামাজিক দায়িত্বের প্রকাশ।
এবার সেই ঘটনার পর নতুন মোড় নিল তিলোত্তমার মায়ের সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন যে, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত অনেকের মধ্যেই নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেও লড়াই করতে পারেন। এই পদক্ষেপকে অনেকে তাঁর প্রতিবাদের নতুন রূপ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা মত উঠে আসছে।
এই প্রসঙ্গে অভিনেতা চন্দন সেনের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। আন্দোলনের সময় তিনিও সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, সেই সময় মানুষ নিজের বিবেকের তাগিদে রাস্তায় নেমেছিলেন। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তখন কাজ করেনি বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতিবাদ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং তা কোনো দলের সীমার মধ্যে বাঁধা ছিল না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনের মূল চেতনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ “দাদা ভালো না বাসলে বাইরের কারও সঙ্গে শু’য়ে আয়” অপমান করতেন সায়ক, বি*স্ফোরক অভিযোগ সুস্মিতার! সঙ্গে দাবি “সহানুভূতি আর ভ্লগিং ব্যবসার জন্যই মাকে ব্যবহার করছে, এতদিন ভালোবাসা কোথায় ছিল?” একের পর এক অন্ধকার অভিজ্ঞতা ফাঁস! বিতর্কের শেষ কোথায়?
চন্দন সেন আরও জানান, ভবিষ্যতে আবারও যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে, সাধারণ মানুষ একইভাবে প্রতিবাদে নামবেন। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা নিজেই এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান, কিন্তু তা দলীয় রাজনীতি নয়। তিনি বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিলোত্তমার মায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের প্রতিবাদ সবসময়ই বিবেকের জায়গা থেকে আসে। সেই কারণেই আন্দোলনের শক্তি কখনও কমে না।






