যেকোনও ধারাবাহিক বা সিনেমার গল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলতে শুধু নায়ক-নায়িকা যথেষ্ট নয়। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে ধূসর বা নেতিবাচক চরিত্রগুলিও। অনেক সময় দর্শকের রাগ, ক্ষোভ বা আবেগ সবচেয়ে বেশি জাগিয়ে তোলে এই চরিত্ররাই। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যখন নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে সেই অনুভূতি তৈরি করতে পারেন, তখনই তাঁর অভিনয় সফল বলে ধরা হয়। তবে পর্দার সেই চরিত্রের প্রভাব অনেক সময় বাস্তব জীবনেও পড়ে, আর সেই অভিজ্ঞতার কথাই সম্প্রতি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী রিমঝিম গুপ্ত (Rimjhim Gupta)।
বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মৌমিতা গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। বিশেষ করে ধূসর বা নেতিবাচক চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে বারবার। অনেক দর্শকের কাছেই তিনি এমন একজন অভিনেত্রী, যাঁকে পর্দায় দেখলেই মনে হয় কোনও না কোনও চক্রান্ত বা কূটচাল শুরু হতে চলেছে। তাঁর অভিনয় এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে বহু মানুষ বাস্তব জীবনেও তাঁকে সেই চরিত্রের সঙ্গেই মিলিয়ে ফেলেন। তবে বাস্তবে মৌমিতা গুপ্ত একেবারেই অন্যরকম মানুষ বলেই জানালেন তাঁর মেয়ে রিমঝিম।
এক সাক্ষাৎকারে রিমঝিম গুপ্ত বলেন, দর্শক হিসেবে অনেকেরই মনে হতে পারে তাঁর মা আরও নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। তবে ধারাবাহিকের কাঠামো এমনই যে সাধারণত নায়ক-নায়িকা এবং একজন শক্তিশালী ভিলেনকে ঘিরেই গল্প এগোয়। সেই কারণে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী এক ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করতে করতে টাইপকাস্ট হয়ে যান। রিমঝিমের মতে, একই ধরনের নেতিবাচক চরিত্র করতে করতে শিল্পীদেরও একসময় একঘেয়ে লাগতে পারে। নতুন ধারাবাহিক এলেই তখন ভাবতে হয়, আগের চরিত্রগুলোর থেকে আলাদা করে নতুন ভিলেনকে কীভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।
তবে মজার বিষয় হল, মৌমিতা গুপ্তের অভিনয় এতটাই বাস্তবসম্মত যে অনেক মানুষ তাঁকে সত্যিই ভয় পেতেন। রিমঝিম জানান, তাঁদের বাড়িতে কাজ করতে আসা মানুষজন পর্যন্ত প্রথম দিকে তাঁর মাকে দেখে অস্বস্তিতে পড়তেন। অনেকে ভাবতেন, পর্দায় যেমন বউমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন, বাস্তবেও হয়তো তেমনই। এমনকি পাশের বাড়ির মানুষদের মধ্যেও একসময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে পারেন, বাস্তবের মৌমিতা গুপ্ত সম্পূর্ণ উল্টো মনের মানুষ। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। বাজারে যাওয়া, নিজের কাজ নিজে করা কিংবা সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা সবকিছুতেই তিনি ভীষণ মাটির কাছাকাছি একজন মানুষ।
আরও পড়ুনঃ “বাবা তখন মৃ’ত্যু শয্যায়, সেই সময়ই আমার সংসার ভাঙতে বসে!” কোন কঠিন পরিস্থিতি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল খেয়ালী দস্তিদারকে? ছোট্ট ছেলেকে সামলে, লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতেন! জীবনের কোন অন্ধকার অধ্যায়ের কথা জানালেন অভিনেত্রী?
রিমঝিম আরও জানান, তাঁর মাকে নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় অবাক করার মতো ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ মৌমিতা গুপ্তকে তাঁর পর্দার চরিত্রের জন্য বকাবকি করতেন। কেউ কেউ প্রশ্ন করতেন, তিনি কেন ধারাবাহিকে এত খারাপ ব্যবহার করেন। এই ঘটনাগুলো একদিকে যেমন হাস্যকর, অন্যদিকে তেমনই একজন অভিনেত্রীর সাফল্যেরও প্রমাণ। কারণ একজন শিল্পী তখনই সফল হন, যখন দর্শক চরিত্রটিকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। আর মৌমিতা গুপ্ত সেই কাজটাই বছরের পর বছর ধরে করে আসছেন। তাই পর্দার ‘ভয়ঙ্কর শাশুড়ি’ বা ‘চতুর ভিলেন’ হলেও বাস্তব জীবনে তিনি যে অত্যন্ত সহজ-সরল এবং মাটির মানুষ, সেই কথাই এদিন তুলে ধরলেন তাঁর মেয়ে রিমঝিম গুপ্ত।






